মহাকাশে কীভাবে বেড়ে উঠল গাছ? নাসার অবিশ্বাস্য পরীক্ষায় প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

পৃথিবীতে কোনো বীজ থেকে গাছ জন্মালে তার শিকড় স্বাভাবিকভাবেই মাটির দিকে এবং কাণ্ড ওপরের দিকে বাড়ে। কিন্তু যদি সেই গাছকে এমন পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে পৃথিবীর মতো মাধ্যাকর্ষণের টান বা মাটি— কোনোটাই নেই? তখন কী হবে? এই অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ১৯৯০-এর দশকের গোড়ায় মহাকাশযানে শুকনো ভুট্টার বীজ পাঠিয়ে এক যুগান্তকারী পরীক্ষা চালিয়েছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

মহাকাশে সেই বীজ সফলভাবে অঙ্কুরিত হয় এবং গাছও বেঁচে থাকে। তবে পৃথিবীর গাছের তুলনায় তাদের শিকড় ও কাণ্ডের বৃদ্ধির ধরন ছিল একেবারেই তাক লাগানো।

মহাকাশে কেন উল্টে গেল গাছের স্বাভাবিক নিয়ম? বিজ্ঞানীদের মতে, মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি ক্ষীণ মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে ভুট্টার শিকড় ও কাণ্ড কোনো নির্দিষ্ট দিক অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ এলোমেলোভাবে বেড়ে উঠেছিল। পৃথিবীতে শিকড় নিচে ও কাণ্ড ওপরে বাড়ার যে স্বাভাবিক প্রবণতা দেখা যায়, তাকে বলা হয় ‘গ্র্যাভিট্রপিজম’। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি গাছকে তার বৃদ্ধির সঠিক দিক নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।

কিন্তু মহাকাশে সেই সংকেত অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ভুট্টার গাছ হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক ‘দিক নির্দেশ’। ফলস্বরূপ, শিকড় ও কাণ্ড দুটোই অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং জটিল পথে বাড়তে শুরু করে। উদ্ভিদের মানুষের মতো চোখ না থাকলেও তাদের বিশেষ কোষ মাধ্যাকর্ষণ শনাক্ত করতে পারে। তবে মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের সংকেত দুর্বল হওয়ায় গাছকে বৃদ্ধির দিক ঠিক করতে আলোর মতো অন্যান্য সংকেতের ওপর নির্ভর করতে হয়।

ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতি: নাসার এই ভুট্টার পরীক্ষা ছিল কেবল একটি সূচনা মাত্র। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ে নিয়মিত গবেষণা চলছে। নাসার সিস্টেমে ইতিমধ্যেই লেটুস, চাইনিজ বাঁধাকপি, সর্ষে শাক এবং জিনিয়ার মতো বিভিন্ন উদ্ভিদ সফলভাবে চাষ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে চাঁদ বা মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে মানুষকে মাসের পর মাস কাটাতে হবে। পৃথিবী থেকে সমস্ত খাবার বয়ে নিয়ে যাওয়া যেমন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তেমনই দুরূহ। তাই স্থানীয়ভাবে মহাকাশেই ফসল ফলানোর এই গবেষণা আগামী দিনে মানবসভ্যতার মহাকাশ জয়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *