ব্রো কোড বনাম সিস কোড! বন্ধুত্বের আসল রাজা কে? ইন্দোরের জেন জি-র ঝগড়ায় তোলপাড় নেটদুনিয়া

গ্রুপ চ্যাটের যাবতীয় নাটক আর ভুল বোঝাবুঝি সরিয়ে রেখে বর্তমান প্রজন্মের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— ‘ব্রো কোড’ (Bro Code) ভালো, নাকি ‘সিস কোড’ (Sis Code)? কার বন্ধুত্বের ভিত আসলে বেশি শক্ত? মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের জেন জি (Gen Z) তরুণ-তরুণীরা এবার এই চিরন্তন তর্কে মুখ খুলেছেন, আর তাঁদের উত্তরগুলোই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

সিস কোড বনাম ব্রো কোড: কী বলছে জেন জি?

মেয়েদের ‘সিস কোড’ মূলত গভীর রাতের থেরাপি সেশন, একে অপরের গোপন কথা সুরক্ষিত রাখা, ড্রেস আপের প্রশংসা করা এবং ছোটখাটো সাফল্যেও আনন্দে মেতে ওঠার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অন্যদিকে, ছেলেদের ‘ব্রো কোড’ মানেই হল অটুট আনুগত্য, ভরসা, কথা দিয়ে তা রাখা এবং বিপদের দিনে বন্ধুকে একা না ছেড়ে পাশে দাঁড়ানো। দুই তরফের স্টাইল আলাদা হলেও দুটোই সমানভাবে পজিটিভ ভাইব দেয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পালক তাগাদ মেয়েদের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, “মেয়েদের বন্ধুত্ব একদম আলাদা। আমরা একে অপরের সিক্রেট রক্ষা করি, হিংসা ছাড়াই একে অপরের জয় সেলিব্রেট করি এবং জীবনের প্রতি পদক্ষেপে পাশে থাকি।”

অন্যদিকে, দেবরাজ শ্রীবাস্তব পুরোপুরি ‘ব্রো কোড’-এর পক্ষে। তাঁর মতে, “আমার কাছে ব্রো কোড মানে লয়ালটি, বিশ্বাস এবং নিজের মানুষকে কখনো নিরাশ না করা। এটা শুধু একটা কথা নয়, একটা বড় প্রতিশ্রুতি।”

শেষ রায় কী এল?

সৌম্যা যাদব তাঁর গার্ল গ্যাংকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বলে অভিহিত করলেও, উৎকর্ষ সিং চৌহান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে সত্যিকারের ‘ব্রো কোড’-এর অর্থ বন্ধু ভুল করলে তাকে চোখে আঙুল দিয়ে ভুলটা দেখিয়ে দেওয়াও বটে।

সব বিতর্কের শেষে জেন জি-র একটাই সর্বসম্মত রায়— বন্ধুত্বের কোনো নির্দিষ্ট কোড হয় না। সেটা গার্ল গ্যাং হোক বা ‘ব্রো ফর লাইফ’, আসল বন্ধুত্ব মানে হলো বিশ্বাস, আনুগত্য আর জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকা।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বন্ধুত্বের ধরন যেমনই হোক না কেন, নিখাদ সম্পর্ক এবং আস্থার জায়গাটি যে আজও একই রকম রয়েছে, ইন্দোরের তরুণ-তরুণীদের এই ভাবনা সেটাই প্রমাণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *