আইআইটি দিল্লিতে ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু! অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, শুরু উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT Delhi)-তে ছাত্রের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামল প্রশাসন। এমএসসি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ঋषिकेश কুমারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ ‘বাইরে থেকে আসা তদন্ত কমিটি’ (External Inquiry Committee) ইতিমধ্যেই তাদের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটি তাদের মূল প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের বড় সিদ্ধান্ত ও আর্থিক সহায়তা:
শিক্ষার্থীদের একটানা আন্দোলন ও ক্ষোভের মুখে পড়ে আইআইটি প্রশাসন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আগামী সপ্তাহে একজন ‘বহিরাগত লোকপাল’ (External Ombudsman) নিয়োগ করা এবং মৃত ছাত্রের পরিবারকে ‘স্বেচ্ছামূলক তহবিল’ (Benevolent Fund) থেকে আর্থিক সাহায্য প্রদান। পাশাপাশি, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অনুদানে একটি আলাদা ফান্ডও গঠন করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আইআইটি দিল্লির লেকচার হল কমপ্লেক্সের ষষ্ঠ তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩১ বছর বয়সী এমএসসি ফিজিক্সের ছাত্র ঋষিকেশ কুমার। এই ঘটনার পরই ক্যাম্পাসের ভেতর চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের অভিযোগ তুলে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন:
ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আইআইটি প্রশাসন একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে প্রথম বর্ষের ক্লাসে ছাত্রসংখ্যা ৩০-৬০ জনের মধ্যে সীমিত রাখা হবে, উইকেন্ডের পরীক্ষার চাপ কমানো হয়েছে এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিটেক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ন্যূনতম সিজিপিএ (CGPA)-র কড়া শর্তও তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এইমস ও ভিমহান্স (AIIMS & VIMHANS)-এর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা (Mental Health Support) চালুর কথা জানিয়েছে ইনস্টিটিউট।