চুরি যাওয়া ট্রেনের কামরায় আস্ত মহারাজা এক্সপ্রেস! জলপাইগুড়ি স্টেশনে পা রাখলেই মিলবে রাজকীয় স্বাদ

ট্রেন ধরার তাড়াহুড়োর মাঝে কিংবা ছুটির সন্ধ্যায় আড্ডা দিতে দিতে যদি মহারাজার মতো রাজকীয় মেজাজে সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়, তবে মন্দ কি! অমৃত ভারত প্রকল্পের হাত ধরে আমূল ভোল বদলে যাওয়া জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে এবার যাত্রীদের জন্য চালু হল এক অভিনব ট্রেন-থিমের রেস্তরাঁ।

বাইরে জলপাইগুড়ির ইতিহাস, ভিতরে মহারাজার বিলাসিতা:

স্টেশনের চত্বরে পা রাখলেই পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে এক চোখজুড়ানো ‘রেল কোচ রেস্টুরেন্ট’। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে আস্ত এক টুকরো জলপাইগুড়ি যেন ক্যানভাসে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ট্রেনের কামরার গায়ে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বৈকুণ্ঠপুরের ঐতিহাসিক দেবী চৌধুরাণী ও ভবানী পাঠকের মন্দির, শতাব্দীপ্রাচীন জটিলেশ্বর ও জলপেশ মন্দির। সেই সঙ্গে ডুয়ার্সের সবুজ চা-বাগান আর পাহাড়ি তিস্তার রূপ এই কোচটিকে এক অন্য উচ্চতা দিয়েছে।

অন্যদিকে, কামরার ভেতরে পা রাখলেই অপেক্ষা করছে আরও বড় চমক। ভারতের অন্যতম বিলাসবহুল ট্রেন ‘মহারাজা এক্সপ্রেস’-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে এর সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অন্দরসজ্জা। আভিজাত্যপূর্ণ আলো, আরামদায়ক বসার জায়গা এবং রাজকীয় পরিবেশ নিমেষেই মন কেড়ে নেবে যে কারও।

নতুন আড্ডার হটস্পট:

অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনটিকে ঐতিহাসিক রাজবাড়ির আদলে সাজানো হয়েছে। স্টেশনের সামনে তৈরি পার্কে ইতিমধ্যেই প্রতিদিন বিকেলবেলা ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের পর্যটকরা। পার্কের ঠিক মুখেই এই রেস্তরাঁটি চালু হওয়ায় গোটা স্টেশন চত্বরের রূপই সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। রেল সূত্রে খবর, এই কোচ রেস্তরাঁয় মিলবে রকমারি সুস্বাদু পদের সম্ভার। ফলে ট্রেনযাত্রীদের দ্রুত খাবার জোগানোর পাশাপাশি শহরবাসীর সান্ধ্য আড্ডা এবং ডুয়ার্সের ঐতিহ্যকে এক সুতোয় বাঁধার এক দারুণ ঠিকানা হয়ে উঠতে চলেছে এই রেল কোচ রেস্তরাঁ।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *