মাত্র ৭২ ঘণ্টায় বিচার শেষ! নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণকাণ্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অভিযুক্তের

চার্জশিট পেশ করার মাত্র তিন দিনের মধ্যে নজিরবিহীন ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক পকসো মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল স্থানীয় আদালত। নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের জেরে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ায় এই চরম শাস্তি ঘোষণা করেছে আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের গান্ধিনগর জেলার কালোল তালুকে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কালোলের বিশেষ পকসো (POCSO) ও তৃতীয় সেশনস আদালত চার্জশিট দাখিলের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে রায়দান করে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন, যখন কালোল তালুকার পানসার গ্রাম থেকে ১৫ বছর ৮ মাস ৬ দিন বয়সি এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়। গান্ধিনগরের মোটি আদারাজের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সি ভরতজি বাচুজি ঠাকুর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে অপহরণ করেছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৩৭(২) ও ৮৭ ধারায় কালোল তালুকা থানায় মামলা রুজু করা হয়।
কালোল তালুকা থানার ইন্সপেক্টর জে জে গাধভির নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ দল তদন্তে নামে। দীর্ঘ তল্লাশির পর গত ৩ আগস্ট অভিযুক্ত ও নির্যাতিতাকে খুঁজে বের করে পুলিশ। তদন্তে এগোতেই নাবালিকাকে ধর্ষণ ও তার গর্ভবতী হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। এরপর মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২)(এম) ও ৬৫(১) ধারা এবং পকসো আইনের কঠোর ধারাগুলি যুক্ত করা হয়।
ডিএনএ এবং এফএসএল (FSL) রিপোর্টসহ সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করে মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে পুলিশ। গত ২১ আগস্ট কালোল বিশেষ পকসো আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গান্ধিনগর রেঞ্জের ডিআইজি বীরেন্দ্রসিংহ যাদব, পুলিশ সুপার রবি তেজা ভাসামসেট্টি এবং কালোল ডিভিশনের ডিএসপি সারোদের তত্ত্বাবধানে এই দ্রুত তদন্ত পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর জে এইচ জোশি।