‘বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত টেনশন কাটছে না!’ তুষারধস ও হড়পা বানের মাঝে নেপালে বিপাকে জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেতা

প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপরূপ দেখল নেপাল। তুষারধস ও হড়পা বানের জেরে তছনছ হয়ে গিয়েছে দেশটির একাধিক এলাকা। আর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঠিক মাঝেই পোখরায় শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী। যদিও যে জায়গায় শুটিং চলছিল, সেই পোখরা এলাকাটি প্রধান দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেকটা দূরে থাকায় বড় বিপদের হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন, তবে কাঠমাণ্ডু যাওয়ার রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় তাঁদের ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
ঠিক কী হয়েছিল নেপালে?
গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আচমকাই হড়পা বান নামে। তার ঠিক আগেই তিব্বতের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প ও তুষারধসের ঘটনা ঘটেছিল। চিনের তিব্বত অঞ্চল ও নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই বিধ্বংসী ভূমিধস ও বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। ধসে গিয়েছে সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং জলের তলায় চলে গেছে যোগাযোগকারী রাস্তাঘাট। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে শত শত মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে।
ঘুরপথে ফেরার টানটান লড়াই
পোখরায় শুটিং চলাকালীন আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শুটিং বাতিল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন অনুরাগীরা ও পরিবার। মাঝে বেশ কিছু সময় অভিনেতার ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বেগ চরমে পৌঁছয়। একই প্রোজেক্টে শুটিংয়ের জন্য সেখানে যাওয়া অন্য অভিনেতা রজতাভ দত্ত আগেই কলকাতা ফিরে আসতে পেরেছিলেন। তবে খরাজবাবু ও তাঁর স্ত্রী আটকে পড়েন।
নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় বাড়ি ফেরা পর্যন্ত তাঁদের মনে চাপা টেনশন কাজ করছে। তিনি বলেন, “যেদিন যাব সেদিনই আবার শো রয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে শুটিং বন্ধ হয়েছে। আজ আমরা বেরিয়ে যাচ্ছি, কাল ফ্লাইট রয়েছে। যতক্ষণ না পৌঁছচ্ছি, টেনশন কাটছে না।”
জানা গেছে, কাঠমাণ্ডুর রুট জলের তলায় চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই অত্যন্ত ঘুরপথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা। সড়কপথে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর হয়ে এরপর তাঁরা সরাসরি কলকাতার বিমান ধরবেন এবং আগামীকালের মধ্যেই তাঁদের নিরাপদে শহরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।