বাজারের হাজার দামি প্রসাধনী বাদ দিন! চুল পড়া কমিয়ে ঘন কালো চুল পেতে জাদুর মতো কাজ করে ঘরের এই তেল

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের বাড়তি মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জেরে বর্তমানে চুল দুর্বল হয়ে পড়া অন্যতম প্রধান সমস্যায় পরিণত হয়েছে। চুলের এই ঝরে যাওয়ার সমস্যায় আমরা প্রায়ই বাজারের নানা রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের ওপর ভরসা রাখি। অথচ এর সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান লুকিয়ে রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই। চুল পড়া রোধ করে নতুন চুল গজাতে এবং গোড়া থেকে চুলকে মজবুত করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে কুমড়োর বীজের তেল (Pumpkin Seed Oil)।
কুমড়োর বীজের তেলের জাদুকরী গুণ
কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড), আয়রন, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, ভিটামিন-ই এবং জিঙ্ক রয়েছে। এই সমস্ত পুষ্টিকর উপাদান চুল পড়া রোধ করতে এবং চুলের বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী। বাজারে এর বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া গেলেও, ঘরে খুব সহজেই খাঁটি তেল বানিয়ে নেওয়া সম্ভব।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
হাফ কাপ কুমড়োর বীজ
১ কাপ নারকেল তেল
১ চা চামচ কালোজিরে
প্রস্তুত প্রণালী
১. প্রথমে কুমড়োর বীজগুলো পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
২. এরপর একটি পাত্রে বীজগুলি ছড়িয়ে রেখে তার গায়ের সমস্ত আর্দ্রতা বা জল শুকিয়ে নিন।
৩. এবার একটি প্যানে বীজগুলি হালকা আঁচে সামান্য ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন, আঁচে যেন বেশি কড়া না হয়, কারণ এতে বীজের আসল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৪. ভাজা বীজগুলো একটি পাত্রে নামিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর মিক্সারে দিয়ে বীজগুলি আধা-ভাঙা বা দানাযুক্ত করে গুঁড়ো করে নিন।
৫. পরের ধাপে, একটি পাত্রে ১ কাপ নারকেল তেল নিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন। তেল সামান্য গরম হয়ে এলে তাতে আধভাঙা কুমড়োর বীজ এবং ১ চা চামচ কালোজিরে মিশিয়ে দিন।
৬. মাঝারি আঁচে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে তেলটি ফোটান। এই সময় সমানে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকুন যাতে পাত্রের তলায় বীজগুলো লেগে না যায়।
৭. এরপর গ্যাস বন্ধ করে তেলটি ঠান্ডা হতে দিন। একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে তেলটি ছেঁকে একটি কাচের বোতলে ভরে নিন। ব্যস, আপনার ঘরোয়া কুমড়োর বীজের তেল ব্যবহারের জন্য একেবারে প্রস্তুত।
ব্যবহারের নিয়ম
সর্বোত্তম ফল পেতে এই তেল সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করা যেতে পারে। চুল ধোয়ার আগে সামান্য তেল ঈষদুষ্ণ গরম করে মাথার ত্বকে বা স্ক্যাল্পে ৫ মিনিট ধরে আলতো হাতে ম্যাসাজ করুন। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর একটি ভালো ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে দ্রুত দৃশ্যমান তফাত দেখতে পাবেন।