মাদক পাচারকারী সন্দেহে মাঝসমুদ্রে মার্কিন সেনার মারাত্মক হামলা! নিহত ২, শুরু নতুন জল্পনা

আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক পাচার রোধের নামে ফের বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল মার্কিন সেনা। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী জলযানে মার্কিন সাউথকমের (US Southern Command) তরফ থেকে চালানো নতুন একটি হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২১ জুনের পর এটিই মার্কিন বাহিনীর প্রথম সরকারিভাবে ঘোষিত কোনো জলযানবিরোধী হামলা, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
আমেরিকার সাউথকম সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২৩ আগস্ট জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার (Joint Task Force Western Hemisphere)-এর উদ্যোগে এই মারণ হামলাটি চালানো হয়। জেনারেল ফ্রান্সিস এল ডোনাভানের নির্দেশেই ওই অভিযানটি পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার পরই পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি সুপরিচিত মাদক পাচারের রুটে চলাচলকারী ওই সন্দেহভাজন জলযানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
আমেরিকান সামরিক বাহিনীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল। বর্তমান হামলাটিকে ধরলে বিগত অভিযানে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়াল অন্তত ৬৭টিতে এবং প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২২৩ জন। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার আগে প্রায় দু’মাসের মতো সময় ধরে এই ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল মার্কিন সেনা। ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কারণেই মূলত এই বিরতি ঘটেছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা।
এদিকে, এই সামরিক অভিযানকে ঘিরে আইনগত ও মানবাধিকারের প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা না থাকা সত্ত্বেও সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের ওপর এভাবে সরাসরি প্রাণঘাতী হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না। পেন্টাগন কিংবা মার্কিন প্রশাসন লক্ষ্যবস্তু হওয়া জলযানগুলিতে সত্যিই মাদক ছিল কি না, তার পর্যাপ্ত প্রমাণ জনসমক্ষে আনেনি বলেই অভিযোগ সমালোচকদের। তাছাড়া, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর মতো গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরেও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মাদক-সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযান চললেও, এর আইনি বৈধতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।