ভারতের বন্ধুর সঙ্গেই গোপন বৈঠক সৌদি আরবের! মক্কা চুক্তির পর ফরাসি ফ্রেমওয়ার্কে বড় ধামাকা

ভারতের ভূ-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক সমীকরণ প্রতিনিয়ত এক নতুন মোড় নিচ্ছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করে চমক দিয়েছে সৌদি আরব, ঠিক তার পরেই আবার ভারতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র ফ্রান্সের সঙ্গে একাধিক ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে রিয়াদ। বন্ধু ও শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে একই সুতোয় এমন ভারসাম্য বজায় রাখার পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে গভীর জল্পনা।

সর্বশেষ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে, ২৪শে আগস্ট প্যারিসের ঐতিহাসিক এলিসি প্রাসাদে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো খাতের মতো অতি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রায় ২১টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাড়ম্বর ফ্রান্স সফরকালে এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফ্রাঙ্কো-সৌদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়। এই সহযোগিতার আওতায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যিক ক্রয় চুক্তি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফ্রান্সের বিশাল কিদ্দিয়া বিনোদন প্রকল্প এবং এআই-ভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ভাগাভাগি করার মতো বিষয়গুলি সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, এই ফরাসি বন্ধুত্বের ঠিক আগেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত। এই চুক্তির সবচেয়ে সংবেদনশীল শর্ত হলো, এই তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বাহ্যিক সশস্ত্র আক্রমণ হলে, তা সম্মিলিতভাবে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক ও নিরাপত্তা নির্ভরতা কমানো এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করাই সৌদি আরবের মূল কৌশল। গভীর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান আর্থিক সহায়তার আশায় এই জোটে যুক্ত হয়েছে, আর তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।

ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের বহুমাত্রিক কূটনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এই মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ভারত বন্ধু নয় এমন সমস্ত পক্ষের কার্যকলাপের ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখছে। তিনি আরও সংযোজন করেন যে, যারা আজ এই ধরনের কৌশলগত চুক্তিতে স্বাক্ষর করছে, তারা নিজেরাও অদূর ভবিষ্যতে গভীর সামরিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। সামগ্রिक এই পরিস্থিতিতে ভারত যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রতিটি পদক্ষেপে সম্পূর্ণ সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *