তিন খুনের নেপথ্যে সাইকোপ্যাথিক বর? দিব্যা-তুলিকা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস!

গোমতি নগর থানা এলাকার আইসিআইসিআই ব্যাংকের কর্মকর্তা দিব্যা মিশ্র, তাঁর ননদ তুলিকা বাজপেয়ী এবং মানস বাজপেয়ীর মর্মান্তিক ও রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। এই লোমহর্ষক ঘটনা একদিকে যেমন গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের তদন্তের তত্ত্ব নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন নিহত দিব্যার বোন তথা প্রবীণ সাংবাদিক প্রজ্ঞা মিশ্র।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে প্রজ্ঞা মিশ্র দাবি করেছেন, যখন হত্যাকারী মানস ব্যাংকের বাইরে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল, তখন ব্যাংকের আতঙ্কিত কর্মচারীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রজ্ঞার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মানস নিজে গাড়ি চালাতে পারত না, তাহলে সে গাড়ি করে ঘটনাস্থলে এসেছিল বলে যে তত্ত্ব প্রচার করা হচ্ছে, তা এল কোথা থেকে? তাঁর দাবি, মানস একটি অটোতে করে খুন করতে এসেছিল এবং সেই অটোতেই পালিয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠছে, সেই অটোচালক কে ছিল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে কি অন্য কেউ মদত জুগিয়েছে?

তিনটি অবৈধ অস্ত্র এল কোথা থেকে?
একজন বেসরকারি ব্যাংক বা অডিট সেক্টরে কর্মরত ব্যক্তির কাছে কীভাবে তিনটি অবৈধ রিভলভার ও পিস্তল এল, তা নিয়ে এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পুলিশ। মানসের কাছ থেকে দুটি দেশীয় পিস্তল এবং একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো বাধা ছাড়াই ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রগুলো জোগাড় করেছিল সে। দিব্যাকে শেষ করতে দুটি পিস্তল নিজের কাছে রেখেছিল মানস, আর তৃতীয়টি রাখা ছিল বাড়িতে। এই অস্ত্রগুলি কোনো অস্ত্র চোরাকারবারি সরবরাহ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে মানসের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তার সঙ্গে স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। সে কাজের অজুহাত দিয়ে পরে কথা বলবে জানিয়েছিল। তুলিকার মানসিক অসুস্থতার কারণে সারা বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল বলেও দাবি করেছে পরিবার। ময়নাতদন্তের পর এই বহুমুখী রহস্যের জট কতদূর খোলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *