রাতের অন্ধকারে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী! আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে কী দেখে মেজাজ হারালেন শারদ্বত?

সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ও পরিষেবা খতিয়ে দেখতে রাতের অন্ধকারে আচমকাই পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়লেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল ব্লক হাসপাতাল এবং বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শনে উঠে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতি থেকে শুরু করে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা—সবকিছুই এদিন তাঁর কড়া পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।
পরিদর্শনে গিয়ে যা যা সামনে এল:
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এদিন একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় নোংরা পরিবেশ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরাসরি ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর চোখে ধরা পড়ে—নার্সিং স্টাফ এবং মহিলা চিকিৎসকদের জন্য নেই কোনো যথাযথ বিশ্রাম কক্ষ। কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পরেও পর্যাপ্ত বিশ্রামাগারের অভাব দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ:
শুধুমাত্র পরিচ্ছন্নতা নয়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে রাতের শিফটে কর্মরত কর্মী ও রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসপাতাল চত্বরের সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো নিয়ে এদিন বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কী বলছেন সাধারণ মানুষ?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’-কে সাধুবাদ জানিয়েছেন রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, রাতে অনেক সময় জরুরি পরিষেবা পেতে দেরি হয়, যার ফলে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হতে হয়। মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর পরিষেবার মান কতটা উন্নত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
হাসপাতালের পরিকাঠামো ঠিক না থাকলে রোগীদের সমস্যা যে কমবে না, এদিন তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিনের এই পরিদর্শনের পর বড়শুল ব্লক হাসপাতাল এবং বর্ধমান মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকাবাসীর।