হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষিকার চড়! ক্লাসরুমে জ্ঞান হারিয়ে মৃত্যু ৬ বছরের শিশুর, সিসিটিভি ফুটেজে শিহরিত শহর

বৃহস্পতিবার সকালের রোদমাখা দিনটি অন্য পাঁচটা দিনের মতোই শুরু হয়েছিল ৬ বছরের প্রণয় তেজার জন্য। প্রতিদিনের মতো হাসিমুখে এলকেজির ব্যাগ গুছিয়ে স্কুলে গিয়েছিল শিশুটি। কিন্তু কে জানত, সেই ক্লাসই তার জীবনের শেষ ক্লাস হবে? স্কুলের ক্লাসরুমের একটি মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারাল বিশাখাপত্তনমের লিটল গার্ডেন প্রাইভেট স্কুলের এই খুদে পড়ুয়া।
ঠিক কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে?
স্কুল সূত্রে খবর, এদিন ক্লাস চলাকালীন শিক্ষিকা সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে তাদের দেওয়া হোমওয়ার্ক দেখাতে বলেন। প্রণয় কোনো কারণবশত হোমওয়ার্ক করে আনতে পারেনি। অভিযোগ, এই সামান্য অপরাধেই শিক্ষিকা তাকে বকাঝকা করেন এবং রাগের মাথায় তার গালে সজোরে চড় মারেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চড় মারার কয়েক সেকেন্ড পরেই শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে শিক্ষিকার গায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর তাকে সচেতন করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ
দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার দেহ পাঠানো হয় কেজিএইচ (KGH)-এ। ছেলের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, কেবল হোমওয়ার্ক না করার অজুহাতে ওই শিক্ষিকার অমানবিক মারধরের কারণেই প্রণয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে, যেখানে শিক্ষিকার এই আচরণের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মৃত ছাত্রের অভিভাবক ও আত্মীয়রা। তাঁরা স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অন্ধ্রপ্রদেশের শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ জানান, “বিশাখাপত্তনমের এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রণয়ের অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা বা স্কুল কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। সরকারের তরফ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরকম সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।