বন্দে মাতরম নিয়ে বিস্ফোরক শর্মিলা! ‘সবাই কি আর গানটা গাইতে পারে?’, তীব্র কটাক্ষ কঙ্গনার

দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) পরিবেশন এবং এর আইনি সুরক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, সমস্ত মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ গানটি গাওয়া বা এর সব স্তবক উচ্চারণ করা সম্ভব নয়। তাঁর এই মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা। শর্মিলার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অপর এক অভিনেত্রী তথা সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত।

শর্মিলা ঠাকুরের যুক্তি কী ছিল?
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর দাবি করেছেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করেন। বহু মানুষ এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী, বহু ঈশ্বরে নয়। বন্দে মাতরমের একটি বিশেষ স্তবকে একাধিক দেবতার বন্দনা করা হয়েছে, যা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষদের পক্ষে উচ্চারণ করা কঠিন হতে পারে। তাই সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলার স্বার্থে প্রথম দুটি স্তবক গাওয়াটাই শ্রেয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

কঙ্গনা রানাওয়াতের কড়া বার্তা
শর্মিলা ঠাকুরের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত প্রকাশ করেন কঙ্গনা রানাওয়াত। তিনি সাহিত্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে কৃত্রিম বা সংকীর্ণ সংযোগ স্থাপন না করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। কঙ্গনার মতে, কবিরা তাঁদের মনন ও কল্পনা দিয়ে রূপক হিসেবে শব্দচয়ন করেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় শক্তিকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।

পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের একটি বিখ্যাত উক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিক অভিব্যক্তিকে আক্ষরিক অর্থে না দেখে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা উচিত। হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের সংসদীয় অধিবেশনে জাতীয় গানের মর্যাদা রক্ষার্থে এবং এর অবমাননা রোধে নতুন আইন পাশ হয়েছে। আইনি সুরক্ষার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এই জাতীয় গান নিয়ে বিশিষ্ট মহলের এই মতপার্থক্য জনমানসে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *