আইপিএস অফিসারের মায়ের রহস্যমৃত্যু! খুন নাকি স্বাভাবিক? ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে চাঞ্চল্যকর মোড়

উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলায় এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনায় খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন এক আইপিএস অফিসার। নিজ বাড়িতেই সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের। এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ও খোদ মৃত মহিলার ছেলের বক্তব্যের মধ্যে প্রকাশ্য বৈপরীত্য তৈরি হওয়ায় রাজ্যজুড়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ই আগস্ট। আম্বেদকর নগরের মালিপুর থানা এলাকার রুধা ধাবরুয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা লখনউতে কর্মরত আইপিএস অফিসার আশুতোষ মিশ্রের বৃদ্ধা মায়ের মৃতদেহ তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে লখনউ থেকে দ্রুত গ্রামে পৌঁছান ওই পুলিশ আধিকারিক। বাড়িতে ঢুকে পরিস্থিতি দেখে তাঁর জোরালো সন্দেহ হয় যে এটি সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়, বরং সুপরিকল্পিত খুন এবং ডাকাতির ঘটনা। তাঁর অভিযোগ ছিল, মায়ের মুখে তোয়ালে গুঁজে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর পরিহিত সমস্ত সোনার গয়না ও বহুমূল্য জিনিসপত্র উধাও। এই মর্মে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। এদিকে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পর জেলা পুলিশ সুপার প্রাচী সিং একটি সংবাদ বিবৃতিতে জানান যে, মৃতদেহে আঘাতের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা এবং হৃৎপিণ্ড ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, গণমাধ্যমের কিছু অংশে গয়না উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান আইপিএস আশুতোষ মিশ্র। তিনি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন, গয়না উদ্ধারের কথা কারা প্রচার করছে যখন তিনি নিজেই কোনো গয়না খুঁজে পাননি? এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শোকার্ত আশুতোষ মিশ্র বলেন, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে যদি নিজের মায়ের মৃত্যুর সত্যতা উদঘাটন করতে এমন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকছে? ঘটনার আকস্মিকতা এবং বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। পরবর্তীতে পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয় যে, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত কোনো গয়না উদ্ধার করা হয়নি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে একাধিক পুলিশ টিম। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *