স্কুলের বন্ধ ঘরে সারাদিন কী করেন অধ্যক্ষ ও শিক্ষিকা? আদিবাসী শিশুদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় জেলা!

দিল্লির জনন্তর মন্তরে জেন জি আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় ছোটদের নতুন আন্দোলন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিগত ১০ দিনে এই নিয়ে তৃতীয়বার, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা সাহসিকতার সঙ্গে স্কুল ও হোস্টেল ব্যবস্থাপনার অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্বারস্থ হলো। ভুরাভাগত এলাকার বিচবাহারি গ্রাম থেকে উঠে আসা এই ঘটনাটি গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কালেক্টরেটে শিশুরা
স্থানীয় স্তরে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আদিবাসী স্কুলছাত্রছাত্রী এবং গ্রামবাসীরা প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সোজা জেলা সদরে পৌঁছে যান। কালেক্টরেটে আয়োজিত জনশুনানিতে উপস্থিত হয়ে তারা বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক মহিলা অতিথি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের পাহাড় খাড়া করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পাঠদানের পরিবর্তে দুই শিক্ষকই সারাদিন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্কুলের সময় বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত হলেও, ছাত্রছাত্রীদের জোর করে বিকেল তিনটেতেই ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বন্ধ ঘরের ভেতরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
শিশুরা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছে যে, ছাত্রছাত্রীদের স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার পর ওই দুই শিক্ষক সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে নিজেদের আটকে রাখেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে সেই ঘরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, এর আগেও ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) এবং আদিবাসী বিষয়ক দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে একাধিকবার এই অনৈতিক আচরণ ও বিশৃঙ্খলার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রী মনোভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে গত ১৬ আগস্ট গ্রামসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাশ করে ওই দুই শিক্ষককে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি তোলা হয়।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস
১০০ কিলোমিটার দূর থেকে আসা শিশুদের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শোনার পর জনশুনানি কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপজাতি উন্নয়ন বিভাগের সহকারী কমিশনার ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন— সাওয়ান পাল, ছিন্দওয়ারা।