অষ্টম বেতন কমিশনে বড় ফাঁক! প্রাক-২০২৬ অবসরপ্রাপ্তরা কি আদৌ বর্ধিত পেনশন পাবেন? শোরগোল দেশজুড়ে

অষ্টম বেতন কমিশন গঠন নিয়ে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি দেশের লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগীদের মধ্যেও জল্পনা ও উদ্বেগ তুঙ্গে। বিশেষ করে, যে সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে অবসর গ্রহণ করেছেন বা করবেন, তাঁরা কি আদৌ বর্ধিত পেনশনের সুবিধা পাবেন—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সরকারি অফিশিয়াল নোটিফিকেশনের খামতি দূর করে অবিলম্বে নিয়ম সংশোধনের জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন পেনশনভোগী সংগঠন।
টার্মস অব রেফারেন্সে বড় ফাঁক!
পেনশনভোগী সংগঠনগুলির মূল ক্ষোভের কারণ হলো, অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য প্রকাশিত সরকারি নোটিফিকেশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা টিওআর-এ প্রাক-২০২৬ অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। নোটিফিকেশনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সংশোধনের বিষয়ে আলোকপাত করা হলেও, পুরনো পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।
এই অস্পষ্ট ভাষার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ‘ভারত পেনশনভোগী সমাজ’ (BPS) এবং ‘অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’ (AIDEF)-এর মতো শীর্ষ সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে এই অফিশিয়াল নথিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী না আনলে ভবিষ্যতে পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পেনশন কোনো দয়া নয়, সাংবিধানিক অধিকার
সরকারি নথিতে ব্যবহৃত ‘নন-কন্ট্রিবিউটরি পেনশন স্কিম’ বা অনুদানের মতো শব্দগুচ্ছ নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে সংগঠনগুলি। তাঁদের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য—পেনশন সরকারের কোনো আর্থিক বোঝা বা অনুদান নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে করা চাকরির পর একজন কর্মীর অর্জিত সাংবিধানিক অধিকার। বর্তমানে দেশে প্রতিরক্ষা কর্মীদের বাদ দিয়েই প্রায় ৩৩.৭৬ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি পেনশনভোগী ও ফ্যামিলি পেনশনভোগী রয়েছেন। ফলে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর এই বিশাল সংখ্যক পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায় সংগঠন
এর আগে ২০১৫ সালের নভেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, অষ্টম বেতন কমিশন পুরনো পেনশন সংশোধন করবে এবং পেনশনভোগীদের স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখবে। তবে পেনশনভোগীদের সাফ কথা, কেবল মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়; সরকারকে অবিলম্বে টিওআর-এ স্পষ্ট লিখিত সংশোধন বা অ্যামেন্ডমেন্ট জারি করতে হবে।