স্পিকারের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর!, বিধানসভায় বহাল থাকছেন ঋতব্রত, তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা

আপাতত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদেই বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু কর্তৃক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতিতে এখনই কোনো হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ পদেই কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে শাসকদলের অন্দরেই দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক। মমতাপন্থী তৃণমূলের একটি অংশ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করলেও, অন্যদিকে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত সমর্থনপত্র জমা পড়েছিল ঋতব্রতর পক্ষে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে দ্বারস্থ হন শোভনদেব। একটি রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট প্রস্তাবের পরেও অন্য এক বিধায়ককে কীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে মামলা গড়ায় সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চে।
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চও এই পর্যায়ে ঋতব্রতকে পদ থেকে সরানোর কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। এর ফলে আদালতের রায় বা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। বিধানসভায় সরকারের কাজকর্মের ওপর নজরদারি এবং বিরোধীদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার ক্ষেত্রে এই পদের বিশেষ গুরুত্ব থাকায়, ঋতব্রতের এই অবস্থান ধরে রাখা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।