সফটওয়্যার আমদানির নামে বিদেশে হু হু করে যাচ্ছে টাকা! কর ফাঁকি দিয়ে টাকা পাচারের এই ভয়ঙ্কর জাল কীভাবে ফাঁস করল আইটি বিভাগ?

গত তিন বছরে বিদেশে বেনামে ও সন্দেহজনকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর গুরুতর অভিযোগে এবার দেশজুড়ে এক বিশাল তল্লাশি ও যাচাই অভিযান শুরু করল আয়কর (IT) বিভাগ। মঙ্গলবার সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই মেগা অভিযানের আওতায় বর্তমানে নজরদারিতে রয়েছে দেশের প্রায় ৩৯৪টি সন্দেহভাজন সংস্থা। এর মধ্যে ১১৭টি সংস্থাই দেশের সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবস্থিত বলে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
কীভাবে চলত এই অর্থ পাচারের কারবার? আয়কর বিভাগের গোয়েন্দা শাখা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, এই তালিকায় থাকা একাধিক সংস্থা আদতে ভুয়ো চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং ‘শেল কোম্পানি’ (Shell Company)। মূলত ভুয়ো অনুদান ও অনুকম্পার আড়ালেই এই সংস্থাগুলি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে আসছিল।
প্রাথমিক তদন্তে আরও দেখা গেছে, এই সংস্থাগুলির অধিকাংশই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দিত না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সংস্থার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য হলেও, তার সঙ্গে বিদেশে পাঠানো বিশাল অঙ্কের অর্থের পরিমাণের কোনো রকম সামঞ্জস্যই ছিল না। আয়কর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ সংস্থাই সফটওয়্যার আমদানি, ফ্রেট চার্জ (Freight Charges) কিংবা কনসাল্টিং সার্ভিসের (Consulting Services) নাম ভাঙিয়ে বিদেশে এই অর্থ পাচার করেছে। অথচ নথিতে ঘোষিত ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে ওই সমস্ত ঠিকানায় এই সংস্থাগুলির বিন্দুমাত্র অস্তিত্বই নেই!
নজরদারিতে একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তদন্তে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। সিবিডিটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের (CA) একটি ছোট চক্র একই আর্থিক বছরে প্রচুর পরিমাণে ‘ফর্ম ১৫সিবি’ (Form 15CB) সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনি। কোনো ধরনের যথাযথ নথি যাচাই না করেই এই সার্টিফিকেটগুলি দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে আয়কর বিভাগ।
মূলত সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকে এই ধরনের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটিও সমানভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তল্লাশি অভিযানে ৩৯৪টি সংস্থার পাশাপাশি ৩৬ জন পেশাদার অ্যাকাউন্ট্যান্টও কড়া নজরদারিতে রয়েছেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদেশে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারি দায়িত্ব পালন করা বাধ্যতামূলক। গোটা ঘটনাটির জেরে আর্থিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং আয়কর বিভাগের তদন্ত বর্তমানে জোড়কদমে চলছে।