নস্ট্যালজিয়ার জাদু নাকি পরিশ্রমের ফসল? ‘আওয়ারাপন ২’-র অভাবনীয় সাফল্যে মুখ খুললেন এমরান ঘরণী!

ছবির গল্প কিংবা অভিনয়ের নতুন কোনো চমক নয়, কেবল নস্ট্যালজিয়ার টানেই সিনেমা হলে ভিড় জমিয়েছেন অগণিত দর্শক। আর তাতেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের মুখ দেখলেন বলিউড অভিনেতা এমরান হাশমি। মাত্র চার দিনেই ১৩০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘আওয়ারাপন ২’। এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে থাকা এমরানের কঠিন লড়াই ও ধৈর্য্যের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন তাঁর স্ত্রী পরভীন।
ক্যামেরার আড়ালে এক অন্য এমরান
অন্যান্য তারকা পত্নীদের মতো লাইমলাইটে থাকতে অভ্যস্ত নন পরভীন। পাপারাৎজি এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু স্বামীর এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলা সাফল্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ইনস্টাগ্রামে এমরানকে নিয়ে লেখা এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, ‘‘এই জায়গায় পৌঁছতে ২৩ বছর লাগল এমির। ২৩ বছরের ধৈর্য, অধ্যাবসায়, আস্থা, সমর্পণ ও প্রার্থনা! কিছু শুক্রবার অসম্ভব আনন্দ দিয়েছে, তো কিছু শুক্রবার মন ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।’’
সাফল্যের নেপথ্যে যে শৃঙ্খলার গল্প
পরভীনের কথায়, ক্যামেরার সামনে এমরান যতটা সাবলীল, ক্যামেরার পিছনে তার চেয়েও অনেক বেশি পরিশ্রমী। স্বামীর সাফল্যের মূল মন্ত্র ফাঁস করে তিনি লেখেন, ‘‘আমি রোজ দেখি পর্দার পিছনে কী ঘটে। ও চিত্রনাট্য নিয়ে পড়াশোনা করে, তেলুগু সংলাপও শেখে, দরজা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রতিটি দৃশ্য প্র্যাকটিস করে। মেপে খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা—দিনের পর দিন এই রুটিনে কোনোদিন অন্যথা হয়নি, এমনকি ছুটিতেও না। সে কারণেই ইন্ডাস্ট্রির সবাই বলে, গোটা বলিউড একদিকে আর এমরান হাশমি অন্য দিকে।’’
পরভীনের মতে, দর্শকদের এই অগাধ ভালোবাসা এমরানের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমেরই ফসল। তিনি তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নদ্রষ্টাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘স্বপ্ন দেখে থাকলে কখনো হার মানবেন না। লক্ষ্যে অবিচল ও শৃঙ্খলাপরায়ণ থাকুন, ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলুন।’’
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আওয়ারাপন’-এর সিক্যুয়েল ‘আওয়ারাপন ২’ নিয়ে শুরু থেকেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এমরান। ছবিটি মুক্তির পর মাত্র চার দিনে ভারতেই ৯১ কোটি টাকা এবং বিশ্বজুড়ে ১৩০ কোটির বেশি ব্যবসা করে নজির গড়েছে। এই সাফল্য কেবল এমরানের নয়, প্রযোজক বিশেষ ভট্ট এবং সুরকার অমল মালিকের ক্যারিয়ারেও এক বিশেষ মাইলফলক হয়ে থাকবে।