ষোলো দিনের অনশনে বড় জয়! ঝাড়খণ্ডে বাতিল সমস্ত বিতর্কিত পরীক্ষা, জুস খেয়ে অনশন ভাঙলেন ছাত্রনেতা

টানা ষোলো দিন ধরে চলা আমরণ অনশন ও তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করল ঝাড়খণ্ড সরকার। ২০১৪ সাল থেকে পরীক্ষা গ্রহণকারী সংস্থা ‘TDPL’-এর নেওয়া সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের পর সোমবার সন্ধ্যায় আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্র মাহাতো ও অন্যান্য অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জুস খেয়ে তাঁদের অনশন ভাঙেন। সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের খবর পৌঁছতেই প্রতিবাদস্থলে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন পরীক্ষার্থীরা। কান্নার রোল, উল্লাস এবং মিষ্টি মুখের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহাসিক জয়।

কী সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড সরকার?
রাজ্য সরকারের বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

পরীক্ষা ও ফলাফল বাতিল: ‘TDPL’-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা, প্রকাশিত ফলাফল এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত নিয়োগ সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বহুল আলোচিত JSSC-CGL পরীক্ষাও রয়েছে।

সিআইডি (CID) তদন্ত: ২০১৪ সাল থেকে এই সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিটি পরীক্ষার উচ্চপর্যায়ের সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কঠোর আইন প্রণয়ন: ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোর দাবি মেনে, ভবিষ্যতে যাতে কোনও শিক্ষার্থী প্রতারিত না হন, সেই জন্য বিধানসভায় কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

আন্দোলনের নেপথ্য কাহিনী
গত ২৫ জুলাই রাঁচির বাপু বাটিকা প্রাঙ্গণে অত্যন্ত ছোট পরিসরে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং JSSC-CGL পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। ধীরে ধীরে সেই প্রতিবাদ বিশাল রূপ নেয়। আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে আমরণ অনশনে বসেন দেবেন্দ্র মাহাতো, উম্মে হাবিবা ও রাহুল ক্রান্তির মতো তরুণ ছাত্র নেতারা। অবশেষে ১৬ দিনের মাথায় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি, মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে সিং এবং বিধায়ক জয়রাম মাহাতোর উপস্থিতিতে অনশন সমাপ্ত হয়। আন্দোলনকারীদের এই লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও।

সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় একাংশ
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান আন্দোলনকারী দেবেন্দ্র মাহাতো বলেন, “আমাদের লড়াই ছিল সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার আমাদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে মেনে নিয়েছেন। তবে আন্দোলন এখনই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।” শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এখনও সব বাতিল পরীক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সিআইডি-র বদলে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ছাত্রনেতা পীযূষ কুমার ও রবীন্দ্র পাসোয়ান জানান, পরীক্ষা বাতিল প্রথম পদক্ষেপ হলেও, দুর্নীতির আসল শিকড় টেনে আনতে সিবিআই তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার পরই তাঁরা পরবর্তী আন্দোলনের সামগ্রিক কৌশল ঠিক করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *