চাবি কিংবা লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার দিন শেষ! ১ বছরের ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে ঝড় তুলতে আসছে গুগল পিক্সেল ট্যাগ

চাবি, মানিব্যাগ কিংবা জরুরি লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার চিরতরে দিন শেষ হতে চলেছে। জনপ্রিয় মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল এবার সরাসরি অ্যাপলের (Apple) এয়ারট্যাগকে (AirTag) কড়া টক্কর দিতে বাজারে নিয়ে এল তাদের প্রথম অফিসিয়াল ট্র্যাকার ডিভাইস— গুগল পিক্সেল ট্যাগ (Google Pixel Tag)। গুগলের সাম্প্রতিক ‘মেইড বাই গুগল’ ইভেন্টে পিক্সেল ১১ ও পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর সঙ্গেই অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই গ্যাজেটটি লঞ্চ করা হয়েছে।

কী কী দুর্দান্ত ফিচার থাকছে পিক্সেল ট্যাগে?

১. ১ বিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ফাইন্ড হাব নেটওয়ার্ক: পিক্সেল ট্যাগ সরাসরি গুগলের শক্তিশালী “ফাইন্ড হাব” (Find Hub) নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আপনার ফোনটি কাছাকাছি না থাকলেও, আশেপাশের যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস সম্পূর্ণ বেনামে এই ট্যাগের লোকেশন আপডেট করে দেবে। অ্যাপলের “ফাইন্ড মাই” নেটওয়ার্ক ঠিক যেভাবে কাজ করে, এটিও ঠিক সেভাবেই নিখুঁত কাজ করবে।

২. আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড ও প্রিসিশন ফাইন্ডিং: কাছাকাছি যাওয়ার পর এই ডিভাইস থেকে কেবল শব্দই শোনা যাবে না, বরং আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড ও ব্লুটুথ চ্যানেল সাউন্ডিং প্রযুক্তির সাহায্যে কমপ্যাটিবল পিক্সেল ফোনে সরাসরি অ্যারো বা দিক নির্দেশ করে দেখিয়ে দেওয়া হবে জিনিসটি ঠিক কোন দিকে এবং কত দূরে রয়েছে। অ্যাপল এয়ারট্যাগ ২-এর মতোই এতে ৬০ মিটার পর্যন্ত নিখুঁত প্রিসিশন ফাইন্ডিং মিলবে।

৩. ১ বছরের শক্তিশালী ব্যাটারি ও আইপি৬৭ সুরক্ষা: গুগলের দাবি অনুযায়ী, এর পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অনায়াসে টিকবে। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে আইপি৬৭ (IP67) মানের জল ও ধুলোবালি প্রতিরোধী ক্ষমতা।

৪. স্মার্ট সব ফিচার: ট্যাগ থেকে শব্দ বাজিয়ে জিনিস খুঁজে পাওয়ার সুবিধা ছাড়াও এতে রয়েছে রিভার্স রিং ফিচার (ট্যাগের বাটন চাপলে আপনার ফোন রিং হবে) এবং একসঙ্গে ১০ জন পর্যন্ত একটি ট্যাগ শেয়ার করার সুবিধা।

৫. ডিজাইন ও সুরক্ষা: অ্যাপলের ট্যাগ গোল আকৃতির হলেও, পিক্সেল ট্যাগের ডিজাইন কিছুটা লম্বাটে ‘পিল-শেইপড’ (pill-shaped) বা বিনের মতো। নিরাপত্তার জন্য এতে ‘ডাল্ট’ (DULT) ফিচার রাখা হয়েছে, যার ফলে কোনো অচেনা ট্যাগ আপনার সঙ্গে ট্রাভেল করলে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ট চলে আসবে।

দাম ও কবে থেকে মিলবে?

গুগলের এই নতুন ট্র্যাকারের একটির দাম রাখা হয়েছে $২৯ এবং চারটির প্যাক মিলবে $৯৯-এ। ইউরোপে এর দাম ধরা হয়েছে ৩৪.৯৯ ইউরো। ভারতে এর সঠিক অফিসিয়াল দাম এখনও ঘোষণা করা না হলেও, অ্যাপল এয়ারট্যাগ ২-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে এটি ভারতে প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার আশেপাশে থাকতে পারে বলে বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে এই ডিভাইসের বিক্রি শুরু হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *