মাথাব্যথাই কি একমাত্র লক্ষণ? মাইগ্রেনের আসল বিপদ লুকিয়ে কোথায়?

মাথাব্যথা মানেই কি মাইগ্রেন? অথবা মাইগ্রেনের সমস্যা মানেই কি কেবল মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা? চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মাইগ্রেনের সমস্যা কেবল মাথার ব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এর নেপথ্যে রয়েছে আরও একাধিক জটিল উপসর্গ। এমনকী ব্যথা শুরু হওয়ার অনেক আগেই শরীর নানা ধরনের সংকেত দিতে শুরু করে, যা সময়মতো চিনতে না পারলে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
মাইগ্রেনের আসল লক্ষণগুলি কী কী?
মাইগ্রেনের ব্যথার সময় সাধারণত মাথায় দপ্দপে বা ধকধকে যন্ত্রণা অনুভূত হয়। এর পাশাপাশি তীব্র বমি ভাব বা বমি হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। এছাড়া অতিরিক্ত আলো, জোরে শব্দ, তীব্র গন্ধ কিংবা শরীরে হালকা স্পর্শও বহু রোগীর কাছে অসহ্য ঠেকে। যার জেরে দৈনন্দিন কাজকর্ম বা অফিসের রুটিন বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যথা শুরুর আগের সতর্কবার্তা
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, মাইগ্রেনের অ্যাটাক আসার আগেই শরীর কিছু পূর্বলক্ষণ দেয়। যেমন—
বারবার হাই ওঠা এবং মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন।
বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগা।
ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
‘অরা’ বা চোখের পলকে অদ্ভুত দৃশ্য
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আগে বা চলাকালীন ‘অরা’ (Aura) বা বিশেষ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থায় চোখের সামনে আলোর ঝলকানি, ছোট ছোট দাগ, রেখা বা বিভিন্ন অদ্ভুত আকার ভেসে উঠতে পারে। অনেকের হাত বা মুখে সাময়িক ঝিনঝিনি, অসংশ্লিষ্ট ভাব কিংবা কথা বলতে অসুবিধাও দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, সব মাইগ্রেন রোগীর ক্ষেত্রে ‘অরা’ বা এই লক্ষণগুলি প্রকাশ পায় না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
পরপর মাইগ্রেনের আক্রমণ হলে, ব্যথার তীব্রতা বাড়লে কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হতে শুরু করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান এবং মানসিক চাপ কমানো এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কোন কোন খাবারে বা পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়ছে, তা ট্র্যাক করতে একটি ‘মাইগ্রেন ডায়েরি’ তৈরি করাও অত্যন্ত ফলদায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষ সতর্কতার বিষয় হলো—হঠাৎ যদি জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, আর তার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা শরীরের কোনো অংশ দুর্বল কিংবা অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। মাথায় আঘাত লাগার পর তীব্র মাথাব্যথা হলেও তা অবহেলা করা মারাত্মক ভুল হতে পারে।