‘চিকিৎসা হচ্ছে না, একের পর এক নতুন কেস!’ জেলবন্দি সুজয়ের বিস্ফোরক অভিযোগে বড় পদক্ষেপ আদালতের

শালবনির আলোচিত জমি দুর্নীতি মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন থানায় কতগুলি অভিযোগ রয়েছে, তা আগামী সাতদিনের মধ্যে সবিস্তারে জানাতে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কতগুলি মামলায় তাঁকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যও পুলিশকে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের লিগাল সেলের ডেপুটি ইনস্পেকটর জেনারেলকে এই নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এই মামলার শুনানিতে সুজয়ের আইনজীবী দাবি করেন যে তাঁর মক্কেল শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং পুলিশি হেফাজতে তাঁর সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। পাশাপাশি, গ্রেফতারির পর থেকে একের পর এক নতুন মামলা চাপানো হচ্ছে বলেও আদালতে অভিযোগ করা হয়। সেইসঙ্গে সুরক্ষাকবচ এবং নতুন করে যাতে তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট করা না হয়, সেই আর্জিও জানানো হয় সুজয়ের পক্ষে।

পালটা সওয়াল করতে গিয়ে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান যে সুজয়কে ইতিমধ্যেই তিন থেকে চারটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যখন শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন জানানো হয়েছিল, সেই সময় কেন তাঁর আইনজীবীরা তার আইনি বিরোধিতা করলেন না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি সুজয়ের বিরুদ্ধে জমা থাকা সমস্ত অভিযোগের তালিকা আগামী সাতদিনের মধ্যে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন। তবে রাজ্যকে এই তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সুজয় হাজরাকে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বা আইনি সুরক্ষা দিতে রাজি হননি আদালত।

উল্লেখ্য, ভুয়ো নথি তৈরি করে শালবনিতে সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে জমি বিক্রি করে সেই টাকা নির্দিষ্ট এক নেতার আপ্ত সহায়কের হাত দিয়ে পাঠানো হতো। এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই সুজয়কে গ্রেফতার করেছে। তবে হেফাজত চলাকালীন যাতে তাঁকে বারবার নতুন মামলায় ফাঁসানো না হয়, সেই আশঙ্কায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *