কোটি টাকার প্যাকেজেও কি মেলে আসল শান্তি? ১ কোটি আয় করা বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ারের অকপট স্বীকারোক্তিতে চোখ কপালে তুলবে সবার!

আজকের দিনে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোটি টাকার প্যাকেজের পেছনে ছোটাই যেন ট্রেন্ড। কিন্তু সেই ইঁদুর দৌড় থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প শুনিয়ে ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছেন বেঙ্গালুরুর এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে যিনি বছরে প্রায় ১.০৫ কোটি টাকা আয় করেন, তাঁর দাবি—জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ ও তৃপ্তি তিনি কোটি টাকার প্যাকেজে পাননি, বরং পেয়েছিলেন কেরিয়ারের শুরুতে পাওয়া মাত্র কুড়ি হাজার টাকার বেতনে। রেডডিটে নিজের জীবনের এই সাফল্যের দীর্ঘ জার্নি শেয়ার করে সকলকে চমকে দিয়েছেন ওই প্রযুক্তিবিদ।
সাধারণ কলেজ থেকে কোটির মাইলফলক
২০১২ সালে একটি সাধারণ মানের তৃতীয় সারির কলেজ থেকে বিটেক পাশ করার পর প্রথম চাকরিটি জোগাড় করতেই তাঁর প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। শুরুর দিকে তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১৪,৩০০ টাকা। এরপর তা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০,০০০, ৩২,০০০ এবং ৬০,০০০ টাকায় পৌঁছায়। কর্মজীবনের তাগিদে যখন তিনি বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দেন, তখন তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লক্ষ টাকায়। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দক্ষতার জোরে তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে বার্ষিক ২৫ লক্ষ, ৪০ লক্ষ, ৬০ লক্ষ, ৮০ লক্ষ এবং অবশেষে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার বিশাল অঙ্কে গিয়ে ঠেকে।
কেন কুড়ি হাজার টাকার বেতন বদলে দিয়েছিল জীবন?
ওই প্রযুক্তিবিদের মতে, তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর এবং মানসিকভাবে তৃপ্তিদায়ক সময় ছিল যখন তাঁর বেতন ১৪,৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০,০০০ টাকা হয়েছিল। ওই সামান্য বেতন বৃদ্ধির পর তিনি বাসে যাতায়াত বন্ধ করে নিজের পছন্দের একটি বাইক কিনেছিলেন। তাঁর ভাষায়, জীবনের সেই দিনগুলোতেই তিনি কাজের আসল আনন্দ ও স্বাধীনতা উপভোগ করেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা আয়ের পর বেতনের অঙ্ক বাড়লেও জীবনযাত্রার মান আর সেভাবে বদলায় না, বরং সেই অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের কাজেই বেশি ব্যবহৃত হয়।
করপোরেট রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের জন্য পরামর্শ
নিজের ১৪ বছরের কর্মজীবনে মাত্র একবার পদোন্নতি পাওয়া এই ইঞ্জিনিয়ার বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র পদোন্নতির আশায় একই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর পড়ে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ, অফিসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মানসিক অশান্তিও বহুগুণ বেড়ে যায়। যদিও তাঁর অভিমত, উচ্চ বেতন সেই চাপ সহ্য করার ক্ষমতা কিছুটা হলেও জুগিয়ে দেয়।
অর্থের চেয়েও বড় এখন স্বাধীনতা
টাকার পাহাড় জমলেও বর্তমানে সেই ইঁদুর দৌড় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে চান ওই টেকি। কোটি টাকার কর্পোরেট চাকরির মায়া কাটিয়ে এখন তিনি নিজের মতো করে বাঁচতে চান। বর্তমানে একটি মাইক্রো-সাস (micro-SaaS) প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নতুন মার্কেটিংয়ের কৌশল শিখছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, নিজের ব্যবসা বা প্রজেক্ট থেকে যদি মাসে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকাও আয় হয়, তবে তিনি চিরতরে এই চাকরি ছেড়ে দেবেন। অন্যের অধীনে কাজ করে বিশাল অঙ্কের টাকা কামানোর চেয়ে নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকাটাই তাঁর কাছে এখন বেশি কাম্য।