বনগাঁ থেকে পাক গুপ্তচর গ্রেফতার! রানা থেকে ‘ওয়াহফ’ হয়ে ভারতে কী করছিল আইসিআই এজেন্ট?

বনগাঁ থেকে আবারও এক পাকিস্তানি গুপ্তচরকে গ্রেফতার করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) আধিকারিকরা এক যৌথ অভিযানে তাকে পাকড়াও করেন। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতের ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কলকাতার তপসিয়ায় আস্তানা গড়ার এবং চরবৃত্তির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
পরিচয় বদলে ভারতে রানা থেকে ‘ওয়াহফ’
তদন্তে নেমে এসটিএফ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, ধৃত ব্যক্তির আসল নাম রানা রউফ। সে পাকিস্তানের ফয়জলাবাদের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নেপাল রুট ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ করেছিল সে। কলকাতায় পাকাপাকিভাবে থিতু হওয়ার জন্য সে একটি চক্রের সাহায্য নিয়ে আধার কার্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জাল নথিপত্র তৈরি করে।
ভারতে আসার পর সে নিজের আসল নাম ‘রানা রউফ’ মুছে ফেলে নতুন নাম নেয় ‘ওয়াহফ’। সমস্ত ভারতীয় নথিতে কলকাতার তপসিয়ার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্ত ভুয়া নথি ও প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। এছাড়া, এই জাল নথি তৈরিতে সহায়তা করার অভিযোগে তপসিয়া এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ।
সরাসরি যোগাযোগ ছিল আইএসআই (ISI)-এর সঙ্গে
প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে এসটিএফের। ধৃত রানার সঙ্গে সরাসরি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে। ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং রেল সংক্রান্ত বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য পাকিস্তানের মাটিতে পাচার করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সেনা ক্যাম্প এবং সেখানে কী ধরনের ইনস্টলেশন বা সামরিক বন্দোবস্ত রয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আইসিআই হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাত সে।
বাংলাদেশ পালানোর ছক
তদন্তকারীদের সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। নিজের ওপর গোয়েন্দাদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে বুঝতে পেরেই সে ভারতে পাততাড়ি গুটিয়ে দ্রুত বাংলাদেশ বা অন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে সরে পড়ার ছক কষছিল। কিন্তু তার আগেই এসটিএফের নিখুঁত জালে ধরা পড়ে যায় সে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই বর্ধমানের একটি জিম থেকে আইএসআই এজেন্ট সন্দেহে হামিম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। সেই ঘটনায় হামিমের বান্ধবী এবং এক সহযোগীকেও পাকড়াও করা হয়েছিল। পরপর এই ধরনের ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।