পাম্পে তেল ভরে টাকা দিতে অস্বীকার! তোলাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই তৃণমূল নেতা

ক্ষমতা বদলালেও পুরনো স্বভাব যে যায় না, তার আরও এক নজির মিলল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায়। পেট্রোল পাম্পে বাইকে তেল ভরে তার টাকা না দিয়ে উল্টে তোলাবাজি ও মারধর করার অভিযোগে দুই তৃণমূল নেতাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে হাড়োয়া থানার শঙ্করপুর এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল পেট্রোল পাম্পে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই তৃণমূল নেতার নাম জাহাঙ্গির আনসারি এবং আনসারুল মোল্লা। অভিযোগ, রবিবার জাহাঙ্গির আনসারি শঙ্করপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে নিজের বাইকে তেল ভরতে যান। বাইকের ট্যাঙ্ক ফুল করে তেল নেওয়ার পর যখন কর্মীরা বিলের টাকা চান, তখন তিনি তা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে তুমুল দুর্ব্যবহার এবং মারধর করারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার রুহুল আমিন মল্লিক এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আজ জাহাঙ্গির আনসারি এসে বাইকে তেল ভরান। মোট ১০৪৬ টাকা ২২ পয়সা বিল হলেও তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। টাকা চাইলে উল্টে হুমকির সুরে বলেন যে পঞ্চায়েত সভাপতি খালেক মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং তাঁর থেকে টাকা নিতে। অন-ডিউটি আমাকে ধাক্কা মারেন। আগেও উনি এরকম বহুবার করেছেন। বাধ্য হয়ে আজ আমি হাড়োয়া থানার দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা এখানে ব্যবসা করতে এসেছি, তোলা দেওয়ার জন্য নয়।”
পুলিশের জালে অভিযুক্তরা
জানা গেছে, শুধু একবারের তেল ভরার টাকাই নয়, ওই পেট্রোল পাম্প থেকে এর আগেও বহুবার তেল ভরে টাকা না দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে ওই তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা পাম্পের সামনে ভিড় জমান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাড়োয়া থানার পুলিশ। এরপরেই তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে জাহাঙ্গির আনসারি ও আনসারুল মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
এই বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতা বিমল দাস কটাক্ষ করে বলেছেন, “জাহাঙ্গির আনসারি নামক এক তৃণমূল নেতা পেট্রোল পাম্প থেকে তোলাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। শুধু পাম্প নয়, এর আগে জামাকাপড়ের দোকান বা অন্যান্য ব্যবসা থেকেও তৃণমূল নেতারা বাকিতে জিনিস নিতেন, টাকা চাইলে ভয় দেখাতেন। পরিবর্তনের পর বাংলার মানুষ আর এই অন্যায় বরদাস্ত করছে না। অপরাধ করলেই পুলিশ গ্রেফতার করছে।”