পিজি-র ছাদে ছাত্রীকে তার দিয়ে বেঁধে নৃশংস ধর্ষণ! আহমেদাবাদের এই লোমহর্ষক কাণ্ডে তোলপাল

গুজরাটের আর্থিক রাজধানী তথা মেগাসিটি আহমেদাবাদ থেকে নারী নিরাপত্তা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলে দেওয়ার মতো এক চাঞ্চল্যকর ও জঘন্য ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের অভিজাত আনন্দনগর এলাকার একটি পেয়িং গেস্ট (PG)-এর ছাদে হাঁটতে যাওয়া এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ছাত্রীকে গলায় তার পেঁচিয়ে আটকে রেখে এক নিরাপত্তা কর্মী কর্তৃক নৃশংসভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে এনকাউন্টারের জেরে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লাগার ঘটনাতেও রাজ্যজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।

ছাদের অন্ধকারে পৈশাচিক আক্রমণ
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত দশটা নাগাদ ভুক্তভোগী ওই তরুণী পিজি-র ছাদে হাঁটতে গিয়েছিলেন। আগে থেকেই সেখানে ওঁত পেতে ছিল অভিযুক্ত সিকিউরিটি গার্ড। আহমেদাবাদ সিটি পুলিশের জেসিপি (সেক্টর ১) নীরজ বাদগুজার এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষী মেয়েটির গলায় লোহার বা প্লাস্টিকের তার শক্ত করে পেঁচিয়ে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে কাবু করে ফেলে। তারের টানে তরুণীটি কোনো চিৎকার বা সাহায্যের জন্য আর্তনাদও করতে পারেননি। এরপর সেই সুযোগেই অভিযুক্ত তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণ করে।”

এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রীটির মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে ছাদে আটকে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তরুণীটি somehow চিৎকার করে সাহায্য চাইলে পিজির অন্যান্য বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মাত্র ৬ দিন আগেই কাজে যোগ দিয়েছিল অভিযুক্ত
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষীর নাম ধরম সিং, সে উত্তর প্রদেশের হারদোই জেলার বাসিন্দা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার মাত্র ছয় দিন আগেই তাকে ওই পিজি-তে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজে বহাল করা হয়েছিল।

অপরাধ সংঘটিত করার পরেই সে নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিচার করে আহমেদাবাদ পুলিশ এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ উদ্যোগে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়। এলাকার প্রায় কয়েক ডজন সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে রবিবার সকালেই হেবাতপুর এলাকা থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ।

পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা ও পুলিশের এনকাউন্টার
ডিসিপি জোন ৭ শিবম ভার্মা জানান, গত রবিবার রাতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত ধরম সিংকে সঙ্গে নিয়ে হেবাতপুর এলাকায় যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর হঠাৎই পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের সার্ভিস পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। অফিসারদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং সেই সময়ে হওয়া ধস্তাধস্তিতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন।

পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং অভিযুক্তের পলায়ন রোধ করতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া সেই গুলি সরাসরি গিয়ে লাগে অভিযুক্তের পায়ে এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আহত অভিযুক্তকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চুরি, অস্ত্র আইন এবং পুলিশের ওপর আক্রমণসহ একাধিক অত্যন্ত গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ আইনি তদন্ত চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *