রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট ধামাকা! সপ্তম পে কমিশন নিয়ে নবান্ন থেকে এল বড় নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এলো এক বিরাট সুখবর। সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার। শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সপ্তম পে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’ (Terms of Reference বা ToR) নির্দিষ্ট করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। এর ফলে বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং অবসরকালীন সুবিধা সহ একাধিক বিষয়ে পর্যালোচনার পথ প্রশস্ত হলো।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য পে কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এবার কমিশনের কাজের ক্ষেত্র এবং কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল রাজ্য।
DA এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে বড় ইঙ্গিত
বিজ্ঞপ্তিতে মহার্ঘ ভাতা বা DA-এর ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচক (AICPI)-এর ভিত্তিতে DA-এর সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে DA দেওয়ার জন্য একটি ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ বা স্থায়ী আদেশ সুপারিশ করার বিষয়টি কমিশনের নজরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ থেকে (কাল্পনিক বা ‘নোশনাল’ নয়, বরং প্রকৃত অর্থে) সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের প্রভাব পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মূল বেতনের সঙ্গে ১০০% মহার্ঘ ভাতা একীভূত করার পর অভিন্ন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বিবেচনার বিষয়টিও এই বিজ্ঞপ্তিতে রাখা হয়েছে।
কার্যপরিধির (ToR) মূল বিষয়গুলি এক নজরে:
বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য: কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন এবং রাজ্য বেতন কমিশনের পে-লেভেলের মধ্যে সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা, যাতে অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা বা মামলা এড়ানো যায়।
বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA): কেন্দ্রীয় কমিশনের (CPC) সুপারিশ অনুযায়ী X, Y ও Z ক্যাটাগরির শহরে HRA এবং যাতায়াত ভাতা পর্যালোচনা করা। এছাড়া, জীবনসঙ্গী সরকারি বা বেসরকারি খাতে কর্মরত থাকলে HRA-র উপর থাকা পুরনো ঊর্ধ্বসীমা (capping) বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।
অন্যান্য ভাতা: কেন্দ্রীয় মানদণ্ড অনুযায়ী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা (CEA), হস্টেল ভর্তুকি এবং অন্যান্য বিদ্যমান ভাতাগুলির যৌক্তিকীকরণ ও সম্মানজনক সংশোধনের সুপারিশ করা।
মুদ্রাস্ফীতির বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনা করে এবং রাজ্য সরকারি পরিষেবায় বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলো দূর করার লক্ষ্যেই এই পে কমিশন কাজ করবে। এই বিজ্ঞপ্তির ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।