‘প্রেমিকা ফোন না তোলা পর্যন্ত নামব না!’ ল্যাম্পপোস্টে চড়ে হাই-ভোল্টেজ ড্রামা যুবকের, তোলপাড় নেটদুনিয়া

ভালোবাসার টানে মানুষ কত কিছুই না করে! কিন্তু রাগের বশে বা অভিমান করে কেউ যে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারেন, যা দেখে মাথা ঘুরে যাবে সাধারণ মানুষের। প্রেমিকার ওপর অভিমান করে রাস্তার ধারের এক বিশাল উঁচু ল্যাম্পপোস্টের সোজা চূড়ায় চড়ে বসার একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। প্রেমিকার ফোন না পাওয়ার জেদেই যুবকের এমন হঠকারী কাণ্ড দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে নেটিজেনদের।

ভাইরাল হওয়া দাবি অনুযায়ী, প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর এবং বারবার চেষ্টা করেও তাঁর ফোন না পেয়ে মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই যুবক। এরপর জেদের বশে তিনি রাস্তার ধারের একটি সুউচ্চ ল্যাম্পপোস্টের একেবারে ডগায় গিয়ে চড়ে বসেন এবং কিছুতেই নিচে নামতে রাজি হননি। এর জেরে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার মাঝখানে তীব্র যানজট ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও ক্রেন এনে উদ্ধার
রাস্তার মাঝখানে এমন আজব দৃশ্য দেখে পথচলতি মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। প্রথমে যুবককে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি ছিলেন নাছোড়বান্দা। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নেওয়ায় শেষমেশ পৌরসভা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তলব করা হয়।

যুবকটি অতিরিক্ত উঁচুতে থাকায় সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছানো সম্ভব ছিল না। এরপর ঘটনাস্থলে একটি বিশাল হাইড্রোলিক ক্রেন নিয়ে আসা হয়। ক্রেনের বাস্কেটে চড়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ধীরে ধীরে ওই যুবকের কাছাকাছি পৌঁছে দীর্ঘ বোঝাবুঝির পর অবশেষে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন। স্বস্তির বিষয় হলো, বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই ওই যুবক অক্ষত অবস্থায় নিচে নেমে আসেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও
ইনস্টাগ্রামের @zindagi.gulzar.h হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা এই ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষের বেশি মানুষ দেখেছেন এবং হাজার হাজার লাইক ও কমেন্টে ভরে গেছে কমেন্ট বক্স। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, যুবকটি বারবার চিৎকার করে বলছিলেন—প্রেমিকা যতক্ষণ না তাঁর ফোনের উত্তর দেবেন, তিনি কিছুতেই নিচে নামবেন না।

এই ভিডিও দেখার পর নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, “এই পরিমাণ সময় যদি পড়াশোনায় দিত, জীবন সুন্দর হতো!” আবার কেউ লিখেছেন, “এটা ভালোবাসা নয়, আদ্যন্ত হাই-ভোল্টেজ ড্রামাবাজি।” যে কোনো পরিস্থিতিতেই এমন বিপজ্জনক স্টান্ট এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *