ডাবল বেডের নিচে লুকিয়ে মহিলা! অন্য সম্প্রদায়ের যুবকের বাড়ি থেকে উদ্ধার নিখোঁজ গৃহবধূ ও সন্তান, চাঞ্চল্য বেরেলিতে

উত্তর প্রদেশের বেরেলি জেলার সিরাউলি থানা এলাকা থেকে একটি অত্যন্ত অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রামেরই অন্য সম্প্রদায়ের এক যুবকের বাড়ি থেকে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে নিখোঁজ হওয়া এক গৃহবধূ ও তাঁর ছোট ছোট সন্তানদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। আশ্চর্যজনকভাবে, পুলিশের তল্লাশির সময় বাড়ির একটি ঘরের ডাবল বেডের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ওই মহিলাকে পাওয়া যায়। মহিলার স্বামী ওই যুবকের বিরুদ্ধে প্রলুব্ধ করে অপহরণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে সিরাউলি থানা এলাকার অঞ্জনি গ্রামে। ভুক্তভোগী মহিলার স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানান, গত ৫ই আগস্ট ভোর ৪টার দিকে তাঁর স্ত্রী কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। চারদিকে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও স্ত্রীর কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারটি গ্রামেরই অন্য সম্প্রদায়ের এক যুবকের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করে। স্বামীর অভিযোগ ছিল, ওই যুবক তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের প্রলুব্ধ করে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে।
বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার
অভিযোগের তীব্রতা ও সংবেদনশীলতা বিচার করে অবিলম্বে তদন্তে নামে সিরাউলি থানা পুলিশ। এর পরেই সন্দেহভাজন ওই যুবকের বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির শুরুতেই পুলিশ প্রথমে মহিলাটির ছোট ছোট সন্তানদের খুঁজে পায়। এরপর ঘরে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালাতে গিয়েই থমকে যান পুলিশকর্মীরা। ঘরের একটি ডাবল বেডের নিচ থেকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ গৃহবধূকে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ মহিলা ও তাঁর সন্তানদের নিরাপদে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নেয়।
পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ
মহিলা, তাঁর সন্তান এবং অভিযুক্ত যুবককে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। বর্তমানে মহিলা ও শিশুরা সম্পূর্ণ পুলিশি সুরক্ষায় রয়েছেন। সিরাউলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোহিত কুমার ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। মহিলা ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই যুবকের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং ধর্মান্তরকরণের অভিযোগের নেপথ্যে আসল সত্য কী, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে কঠোর জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।