ছেলের শেষকৃত্যে কি মুখ দেখাবেন ৫০ হাজারের মোস্ট ওয়ান্টেড শায়েস্তা পারভীন? বড়সড় বিপাকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

কুখ্যাত মাফিয়া ও গ্যাংস্টার আতিক আহমেদের পরিবারে ফের নেমে এল শোকের ছায়া। ঝাঁসিতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আতিকের ছোট ছেলে আবান আহমেদ-এর। দুর্ঘটনার সময় তিনি প্রয়াগরাজ থেকে ঝাঁসি জেলে বন্দী থাকা তাঁর বড় ভাই আলী আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই যোগী রাজ্যে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে— গত সাড়ে তিন বছর ধরে পলাতক থাকা আতিকের স্ত্রী তথা আবানের মা শায়েস্তা পারভীন কি ছেলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে এবার প্রকাশ্যে আসবেন?

কেন এত কৌতূহল? শায়েস্তার রহস্যজনক অন্তর্ধান
পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ই এপ্রিল ছেলে আসাদ আহমেদের এনকাউন্টার এবং তারও মাত্র দু’দিন পর অর্থাৎ ১৫ই এপ্রিল স্বামী আতিক আহমেদ ও দেবর আশরাফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও শায়েস্তা পারভীনকে কোথাও দেখা যায়নি। পুলিশ সেবার আশা করেছিল তিনি শেষকৃত্যে হাজির হবেন, কিন্তু তা হয়নি। এখন আবানের মৃত্যুর পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আবারও জানাজা ও দাফনের স্থানগুলোতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।

উমেশ পাল হত্যা মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে ২০২৩ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন শায়েস্তা পারভীন। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হামলাকারীদের সহায়তা, প্রতারণা এবং অস্ত্র আইনসহ মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তিনিই নন, আতিকের বোন আয়েশা (নূরী) এবং ভাই আশরাফের স্ত্রী জয়নাবও দীর্ঘদিন ধরে পলাতক, যাঁদের প্রত্যেকের মাথার দাম ২৫,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

৩ বছরে ৯ রাজ্যে তল্লাশি, হাতড়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ
উত্তর প্রদেশ পুলিশ, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF), অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (ATS) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গত সাড়ে তিন বছর ধরে শায়েস্তাকে ধরার জন্য এক প্রকার আকাশ-পাতাল এক করে ফেলেছে।

উত্তর প্রদেশের ১৩টি জেলা ছাড়াও বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা এবং দিল্লি— এই ৯টি রাজ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।

৫০০-র বেশি জায়গায় রেইড করা হলেও এবং বিমানবন্দরগুলোতে লুকআউট নোটিশ জারি করা সত্ত্বেও পুলিশ আজ পর্যন্ত তাঁর নাগাল পায়নি।

ছেলের এনকাউন্টার ও স্বামীর জানাজাতেও আসেননি শায়েস্তা
আসাদের এনকাউন্টার: ২০২৩ সালের ১৩ই এপ্রিল এসটিএফের গুলিতে নিহত হন আতিকের ছেলে আসাদ। পরের দিন জানাজা হলেও সেখানে স্বামী বা স্ত্রী— কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

আতিক-আশরাফের শেষকৃত্য: ২০২৩ সালের ১৫ই এপ্রিল রাতে কলভিন হাসপাতালের বাইরে আতিক ও আশরাফকে খুন করা হয়। পরদিন কাসারি-মাসারি কবরস্থানে জানাজা ছিল। পুলিশ মহিলা পুলিশ বাহিনী ও স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করলেও শায়েস্তাকে দেখা মেলেনি।

এরপর কৌশাম্বীর পালহানা গ্রাম কিংবা ওড়িশা ও দিল্লিতে তাঁর লুকিয়ে থাকার একাধিক ভুয়া বা আসল খবরের সূত্র পেলেও পুলিশ খালি হাতেই ফিরেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আতিকের ভাগ্নে জাকির ওরফে জাকা দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর জানায় যে, উমেশ পাল হত্যাকাণ্ডের পর শায়েস্তা দীর্ঘদিন দিল্লিতে লুকিয়ে ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়।

আতিকের ৫ ছেলের এখন কী পরিস্থিতি?
মাফিয়া আতিক আহমেদের পাঁচ ছেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

ওমর আহমেদ: চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত, বর্তমানে লখনউ জেলে বন্দি।

আলী আহমেদ: উমেশ পাল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত, ঝাঁসি জেলে বন্দি (যাঁর সঙ্গেই দেখা করতে যাচ্ছিলেন মৃত আবান)।

আসাদ আহমেদ: ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল ঝাঁসিতে পুলিশের গুলিতে নিহত।

আজম আহমেদ: বর্তমানে আতিকের বোনের সুরক্ষায় রয়েছে।

আবান আহমেদ: সম্প্রতি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *