এআই বিকৃত ভিডিও কাণ্ড! প্রধানমন্ত্রী মোদীর মর্ফড ভিডিও শেয়ার করায় মেটা ইন্ডিয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত বিকৃত বা মর্ফড ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হলেও, এই ঘটনায় ফের বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়েছে টেক জায়ান্ট মেটা ইন্ডিয়া (Meta India)। এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ওই আপত্তিকর ও বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। হায়দ্রাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ মেটা ইন্ডিয়া এবং বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি আসল ভিডিও এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন এবং সেটির মাধ্যমে জনমানসে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালান। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র একটি বিক্ষোভের সময়ে করা ভিডিওর অংশবিশেষ এআই টুল ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয় এবং একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর প্রেক্ষাপটে তা ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়া হয়।
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে তদন্ত
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিকৃত ভিডিওগুলো মেটার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম—ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম-এ অবাধে শেয়ার করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এ ধরনের ডিপফেক বা এআই-নির্মিত ভিডিওগুলো সাধারণ মানুষকে মারাত্মকভাবে বিভ্রান্ত করতে এবং সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে সক্ষম।
হায়দ্রাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে, মেটা প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন ভারতীয় আইন—যেমন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর নিয়মগুলো লঙ্ঘন করেছে কি না।
ভিডিও নির্মাতাদের সন্ধানে তল্লাশি
ঠিক কারা এই এআই-নির্মিত মর্ফড ভিডিওগুলো প্রথম তৈরি করেছিল, কীভাবে তা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন চ্যানেলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং মেটার নিজস্ব নিরাপত্তা বা ফিল্টারিং ব্যবস্থা তা প্রতিরোধ করতে কেন ব্যর্থ হলো—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, এই ভিডিওগুলো যারা তৈরি ও যারা শেয়ার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকাও নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
মেটার কাছে জবাব তলব ও কর্তৃপক্ষের জেরার মুখে কোম্পানি
হায়দ্রাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ এর আগেই মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করে কোম্পানির নীতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পুলিশ জানতে চেয়েছিল যে, প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এআই-সম্পর্কিত ভুয়া কনটেন্ট, অনলাইন স্ক্যাম এবং বিকৃত ভিডিও শনাক্ত ও তা দ্রুত অপসারণ করার জন্য তাদের কাছে কী ধরনের স্বয়ংক্রিয় বা কার্যকরী ব্যবস্থা রয়েছে।
পুলিশের তলবের পর মেটার প্রতিনিধি দল তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হয়ে তাদের কন্টেন্ট মডারেশন সিস্টেম, পলিসি এবং নিয়মকানুন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এই তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে
পুলিশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ, টেকনিক্যাল লগের তথ্য এবং তদন্তের সামগ্রিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
মর্ফড ভিডিও কী?
ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা আধুনিক এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে যখন কোনো ব্যক্তির মুখাবয়ব, কণ্ঠস্বর বা অঙ্গভঙ্গি এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যার ফলে মনে হয় ওই ব্যক্তি এমন কিছু বলছেন বা করছেন যা তিনি বাস্তবে কখনোই করেননি—তাকে মর্ফড বা ডিপফেক ভিডিও বলা হয়।