প্রায় দু’দশক পর কলকাতার মাটিতে তসলিমা নাসরিন! এলেন কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে?

প্রায় দুই দশক বা দীর্ঘ কুড়ি বছর পর অবশেষে কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন বিতর্কিত ও নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তথা সমাজকর্মী তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর যে শহরকে তিনি একসময় নিজের বাড়ি বলে মনে করতেন, সেখানে ফিরে আসার আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই শহরে এসে তাঁর ভীষণ ভালো লাগছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের পর এই প্রথমবার সর্বসমক্ষে কলকাতায় এলেন তসলিমা নাসরিন। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ থেকে দেশত্যাগ করার পর তিনি কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। তবে তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’ (Dwikhondito)-কে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের জেরে শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অজুহাত দিয়ে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল। এর আগে ২০০৩ সালে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে তৎকালীন সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার তাঁর ওই বইটির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সি এই লেখিকা দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতির সুবাদে দিল্লিতে বসবাস করছেন। তবে এই কদিনের সফরকে জীবনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আবেগঘন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন তসলিমা। কলকাতা ফেরার আগে তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি কখনই নিজের ইচ্ছায় কলকাতা ছাড়েননি। এই প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ত时的 পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাকে জোর করে রাজ্য থেকে বের করে দিয়েছিল। কিন্তু আমি কখনো আশা ছাড়িনি যে একদিন এই শহরে ফিরব। বছরের পর বছর কেটে গেছে, সরকার বদলেছে, কিন্তু আমার জন্য দরজা বন্ধই থেকেছে।” দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে এই সফরকে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত “বাড়ি ফেরা” (Homecoming) বলেই অভিহিত করেছেন।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই সফরকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।