মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে ভয়ঙ্কর ছক ফাঁস, ধৃত কাশ্মীরের জৈশ জঙ্গি!

দীর্ঘদিনের তল্লাশির পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। বর্ধমানের একটি জনবহুল ও অভিজাত এলাকা থেকে কাশ্মীরের এক দুর্ধর্ষ জৈশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হলো। ধৃত জঙ্গির নাম হামিদ মণ্ডল। শুক্রবার সকালে বর্ধমানের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের নিকটবর্তী অভিজাত আবাসন ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’-এ অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে বেঙ্গল এসটিএফ।

প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃত হামিদ সরাসরি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করছিল এবং পাকিস্তান থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে সে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তার মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলা চালানো। এদিনই হামিদকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে।

রেনেসাঁ হাউজিংয়ে যেভাবে চলত নজরদারি

  • ব্যায়ামের সময়ে গ্রেফতার: শুক্রবার সকালে এসটিএফ যখন ওই আবাসনে হানা দেয়, সেই সময় ঘরের ভেতরে শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ করছিল হামিদ। সূত্রের খবর, সেই মুহূর্তে ঘরে আরও একজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পলাতক ওই ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

  • ভাড়াবাসার আড়ালে ষড়যন্ত্র: স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র মাসখানেক আগেই বর্ধমানের ওই অভিজাত আবাসনে ভাড়ায় থাকতে শুরু করেছিল হামিদ। এর আগে হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করত এবং প্রায় দু’মাস আগে সে বর্ধমানে চলে আসে।

মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার মারাত্মক ছক

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল এই জঙ্গি। শুধু বর্ধমান নয়, নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রীর ফ্ল্যাটের অনতিদূরেও সে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রেখেছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের রুট, তিনি কখন গাড়িতে উঠছেন, কোন গাড়ি ব্যবহার করছেন, গাড়ির চালক কে এবং গাড়ি কোথায় পার্কিং করা হচ্ছে— এই সংক্রান্ত যাবতীয় গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য হামিদের সংগ্রহে ছিল, যা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিউ টাউন ও বর্ধমানে এই জঙ্গিকে কে বা কারা ফ্ল্যাট ভাড়া পেতে সাহায্য করেছিল, সেই নেপথ্য সহযোগীদেরও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

পরিবারের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, ধৃত হামিদের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল পুলিশের দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “পুলিশ আমার ছেলের খোঁজে বাড়িতে এসেছিল এবং প্রথমে জানিয়েছিল যে একটি মেয়েঘটিত বিষয়ে তাকে দরকার। এখন হঠাৎই জঙ্গিযোগের কথা বলা হচ্ছে। পুরো বিষয়টাই সাজানো।” তিনি আলু-পেঁয়াজের ব্যবসা করেন এবং কলকাতা ও বর্ধমানের বাড়িতে যাতায়াত রয়েছে বলে জানান। তবে এই হাই-প্রোফাইল জঙ্গি গ্রেফতারির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *