বয়স বাড়লে পাতে ঠিক কতটুকু ভাত রাখা দরকার? না জানলে বড় ভুল করছেন!

এশিয়ার প্রায় প্রতিটি ঘরেই প্রধান খাবার হিসেবে প্রতিদিন ভাত রান্না হয়। বাজারে এখন ব্রাউন রাইস বা লাল চালের চল বাড়লেও, প্রথাগত ভাতের রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ। ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট সারাদিনের শক্তির জোগান দেয়। পাশাপাশি এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি-এর মতো নানা জরুরি পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভাত না খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে এবং কার্বোহাইড্রেট বন্ধ হলে ওজন ও শর্করার মাত্রা সাময়িকভাবে কমলেও, সঠিক পরিমাণে ও বয়স অনুযায়ী ভাত খেলে শরীরে কোনো ক্ষতি হয় না। বরং সঠিক মাপ জানলে সুস্থ থাকা সহজ হয়।
বয়স অনুযায়ী ভাতের সঠিক পরিমাণ কত?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৬ বার শস্য জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, যার মধ্যে ভাত থাকতে পারে। তবে কোন বয়সে কতটা পরিমাণ ভাত খাওয়া উচিত, তার একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি:
১ থেকে ৩ বছরের শিশু: এই বয়সি শিশুদের দিনে মাত্র এক চতুর্থাংশ কাপ রান্না করা ভাত খাওয়ানো উচিত।
৪ থেকে ৬ বছরের শিশু: এদের জন্য ১/৩ কাপ রান্না করা ভাত আদর্শ।
৭ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশু: এই বয়সের বাচ্চাদের জন্য ১/২ কাপ ভাত খাওয়া উপযুক্ত।
৯ থেকে ১৩ বছরের কিশোর-কিশোরী: এদের প্রতিদিন প্রায় ৬ রকমের শস্যজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত, যার মধ্যে ভাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ থেকে ১৮ বছর: এই বয়সে মেয়েদের ৬টি এবং ছেলেদের ৭টি সার্ভিং শস্য খাওয়া প্রয়োজন।
১৯ থেকে ৫০ বছর (প্রাপ্তবয়স্ক): এই বয়সি পুরুষদের প্রতিদিন ৮টি সার্ভিং এবং মহিলাদের ৬ থেকে ৭টি সার্ভিং শস্য খাওয়া উচিত।
৫১ বছর বা তার বেশি বয়স: বয়স্ক পুরুষদের ৭টি পরিবেশন এবং মহিলাদের ৬টি শস্য খাওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একবেলা বা এক সার্ভিংয়ে প্রায় ৯৫ গ্রাম পর্যন্ত রান্না করা ভাত খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া পুষ্টিবিদরা সাদা চালের পাশাপাশি বাদামি বা কালো চালের মতো গোটা শস্যজাতীয় চাল খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ কার্যকর।