পোড়া জায়গায় বরফ বা টুথপেস্ট লাগাচ্ছেন? বড় ভুল করছেন! অজান্তেই কোন মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন জানেন?

রান্না করতে গিয়ে কিংবা দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততায় সামান্য পুড়ে যাওয়ার ঘটনা যে কারোর সঙ্গেই ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চটজলদি স্বস্তি পেতে বেশিরভাগ মানুষই ভরসা রাখেন বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকার ওপর। পোড়া জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে বরফ ঘষে দেওয়া, টুথপেস্ট মেখে নেওয়া কিংবা তেল দিয়ে দেওয়ার মতো প্রচলিত অভ্যাস আমাদের সমাজে অত্যন্ত পুরনো। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ ভুলের কারণে উপকারের বদলে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে রোগীর।
কেন বিপজ্জনক এই ঘরোয়া টোটকাগুলি?
লখনউয়ের কিং জর্জেস মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি (KGMU)-র প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ব্রিজেশ মিশ্রর মতে, পুড়ে যাওয়া ত্বকে বরফ ঘষা, টুথপেস্ট বা তেল লাগানোর প্রচলিত ধারণার ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়। তাঁর দেওয়া কারণগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
বরফ: পোড়া অংশে বরফ ঘষলে সেখানকার চামড়া অতিরিক্ত ঠান্ডায় হিমায়িত হয়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
টুথপেস্ট: টুথপেস্টে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পিপারমিন্ট থাকে, যা সংবেদনশীল পোড়া জায়গার আরও বেশি ক্ষতি করে।
তেল: তেল পোড়া জায়গার ভেতরে জমে থাকা গরম বা তাপ বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ রোধ করে। ফলে পোড়া অংশ ঠান্ডা হতে অনেক বেশি সময় নেয় এবং ক্ষত আরও গভীর হয়।
পোড়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসার সঠিক নিয়ম কী?
অধ্যাপক মিশ্রর পরামর্শ অনুযায়ী, কোথাও পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ট্যাপের কলের জলের তলায় পোড়া জায়গাটি ধরে রাখা উচিত। যতক্ষণ না পোড়া জায়গার জ্বলন ও তাপ ঠান্ডা হচ্ছে, ততক্ষণ জল দেওয়া চালিয়ে যেতে হবে। এরপর পরিষ্কার লিনেন জাতীয় কাপড় দিয়ে পোড়া অংশ আলতোভাবে ঢেকে দিতে হবে। আঘাত গুরুতর হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
মাছের ছালের অভিনব ব্যবহার
অন্যদিকে, প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন কেএস মূর্তির পরামর্শ অনুযায়ী, মাছের ছালে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। বর্তমানে বাজারে মাছের ছাল থেকে তৈরি বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়, যা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পোড়া অংশে প্রয়োগ করলে দ্রুত উপশম ও ক্ষত সারাতে দারুণ সাহায্য করে। তাই ঘরোয়া অন্ধ বিশ্বাসের বদলে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।