১৬-১৮ মাসের এরিয়ার পাবেন সরকারি কর্মীরা! অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে সংসদে কী জানালেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী?

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন ও এর সুপারিশ কার্যকর হওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে। ঠিক এই আবহেই সংসদ ভবনে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র। রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বেতন বৃদ্ধি এবং এরিয়ার (Arrear) সংক্রান্ত সমস্ত ধোঁয়াশা দূর করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন।
সংসদে কী জানাল অর্থ মন্ত্রক?
রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকার গত ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করেছে। নিয়মানুযায়ী, কমিশনকে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের ৩ মের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিশন তাদের কাজের কোনো আপডেট বা মধ্যবর্তী রিপোর্ট সরকারকে দিতে বাধ্য নয়; তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতো করে কাজ পরিচালনা করতে পারবে।
কবে থেকে পাবেন বর্ধিত বেতন এবং বকেয়া টাকার হিসাব?
কর্মচারীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল যে, ২০২৭ সালে রিপোর্ট জমা পড়লে তাঁরা ঠিক কবে থেকে বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
কার্যকরী তারিখ: অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
এরিয়ার বা বকেয়া টাকা: কমিশনের ফাইনাল রিপোর্ট ২০২৭ সালের মে মাসে জমা পড়ার পর সরকারের তা অনুমোদন ও বাস্তবায়িত করতে আরও কিছু সময় লাগবে। তবে কর্মচারীদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না, কারণ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে ১৬ থেকে ১৮ মাসের মোটা অঙ্কের এরিয়ার বা বকেয়া টাকা একসঙ্গে হাতে পাবেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা।
সপ্তম বেতন কমিশনের ইতিহাস কী ছিল?
অতীতে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের সময়ও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হওয়ার পর তারা ২০১৫ সালের নভেম্বরে নিজেদের সুপারিশ জমা দেয়। এরপর ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি সরকার সেই নিয়ম কার্যকর করে। যার ফলে সেসময় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৭ মাসের এরিয়ার বা বকেয়া টাকা পেয়েছিলেন। সেই তুলনায় অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে কর্মচারীরা আরও বেশি অর্থাৎ ১৬-১৮ মাসের বকেয়া টাকা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।