পায়ে অসহ্য ব্যথা আর ঝিনঝিনি? সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করছেন না তো!

পায়ের ব্যথা অনেকের কাছেই একটি পরিচিত সমস্যা। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকলেও যদি এর স্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে না পাওয়া যায় এবং তা কয়েক সপ্তাহ ধরে না কমে, তবে এর পেছনে শুধু হাড় বা পেশির সমস্যা নয়, লুকিয়ে থাকতে পারে পুষ্টিহীনতাও। চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাবে স্নায়ু, পেশী, হাড় ও রক্তসঞ্চালনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যার ফলে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা অনুভূত হয়।
পায়ে ব্যথার জন্য দায়ী প্রধান ভিটামিন ঘাটতিগুলো:
ভিটামিন বি১২-এর অভাব: এই ভিটামিন স্নায়ুর সুরক্ষা ও লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর ঘাটতিতে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’-র মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্যকারী এই ভিটামিনের অভাবে হাড় ও পেশিতে ব্যথা, বিশেষ করে পা ও হাঁটুতে অস্বস্তি এবং হাঁটাচলায় কষ্ট হতে পারে।
ভিটামিন বি৬-এর অভাব: স্নায়ুর কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্যকারী এই উপাদানের ঘাটতি পায়ে ব্যথা বা অবশ ভাব ডেকে আনতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে।
ফোলেট বা ভিটামিন বি৯-এর অভাব: রক্তাল্পতা ও পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি ঘটিয়ে এটি ক্লান্তি ও পায়ে ব্যথা সৃষ্টি করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পায়ের ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয়, বিশ্রাম নেওয়ার পরও না কমে এবং তার সঙ্গে অসাড়তা বা ঝিনঝিনির মতো উপসর্গ থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করা উচিত।
ঘাটতি প্রতিরোধের উপায়:
নিয়মিত মাছ, ডিম, দুধ, মাংস, সবুজ শাকসবজি, ডাল ও ফল খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকার অভ্যাস করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে দীর্ঘদিন ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।