গভীর রাতেও চুলার পাশে? গ্যাসের মারাত্মক সংকটে রান্না চালিয়ে যাওয়ার এই কৌশলগুলো জানেন কি?

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে অনেক পরিবারকে রান্নার জন্য গভীর রাত বা ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার—সব কিছুতেই তৈরি হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে কর্মজীবী দম্পতি, শিশু ও বয়স্ক সদস্যযুক্ত পরিবারগুলোর এই ভোগান্তি দূর করতে একটু পরিকল্পনা আর কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
গ্যাসের চাপ কম থাকলেও যেভাবে সহজে রান্না সারবেন:
আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন: ডাল, ছোলা বা চাল রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। পাশাপাশি এক হাঁড়িতে তৈরি করা যায় এমন খাবার (যেমন খিচুড়ি বা এক পাত্রের পদ) বেছে নিলে গ্যাস সাশ্রয় হয় এবং ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ বাইরে বেরিয়ে যায় না।
উপকরণ প্রস্তুত রাখুন: চুলা জ্বালানোর আগে সবজি কাটা, মসলা রেডি করা এবং প্রয়োজনীয় সব জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে রাখুন। এতে অযথা গ্যাস অপচয় হবে না।
বিকল্প যন্ত্রের ব্যবহার: বাসায় ইন্ডাকশন কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা এয়ার ফ্রায়ার থাকলে চা বানানো, পানি গরম করা বা ছোটখাটো রান্নায় সেগুলোর সাহায্য নিন।
একবারে বেশি রান্না: গ্যাসের চাপ যখন ভালো থাকে, তখন একবারে বেশি করে রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিন। পরে শুধু গরম করে নিলেই চলবে।
প্রেসার কুকারের ব্যবহার: ডাল, মাংস বা শক্ত সবজি রান্নায় সাধারণ হাঁড়ির বদলে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে অনেক কম সময়ে ও কম গ্যাসে রান্না শেষ হয়।
চুলা ছাড়া রান্নার বিকল্প: দই-চিড়া, স্যান্ডউইচ, ওটস কিংবা বিভিন্ন সালাদের মতো খাবারগুলো গ্যাসের ঝামেলা ছাড়াই পুষ্টির জোগান দিতে পারে।
পরিবারের সবাইকে যুক্ত করুন: রান্নার চাপ একা না নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের ছোটখাটো কাজে (যেমন সবজি কাটা বা গুছিয়ে রাখা) যুক্ত করুন।
সামান্য সচেতনতা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্যাস সংকটের এই সময়ে আপনার রান্নাঘরকে রাখতে পারে সচল ও গোছালো।