‘নির্বাচনের পর কেঁদো না!’ বিজেপিকে হটাতে সপা প্রধান অখিলেশকে সরাসরি জোটের প্রস্তাব দিলেন আসাদুদ্দিন ওয়েইসি

আর বছর ঘুরলেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগে থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়াতে শুরু করে দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। মোরাদাবাদের একটি বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি বিজেপি সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে একটি শক্তিশালী ‘বিজেপি-বিরোধী জোট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন তিনি।

কী বার্তা দিলেন ওয়েইসি?
মোরাদাবাদের জনসভা থেকে সাফ জানিয়ে দিয়ে ওয়েইসি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, আজও বলছি—মজলিস কোনোভাবেই চায় না যে উত্তরপ্রদেশে ফের বিজেপি সরকার গঠন করুক। আমি হাত মেলাতে প্রস্তুত, জোট গঠন করতেও রাজি আছি। এখনই কথা বলার সঠিক সময়। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর আর কেঁদে লাভ নেই। আমরা কোনোমতেই চাই না বিজেপি আবার ক্ষমতায় আসুক।” মূলত অখিলেশ যাদব ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি অতীতে অভিযোগ তুলত যে মিম (AIMIM) প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়ালে সংখ্যালঘু ভোট কেটে পরোক্ষভাবে বিজেপির সুবিধা করে দেয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিনের সভা থেকে ওয়েইসি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা তো বলেন যে ওয়েইসি প্রার্থী দিলে আপনাদের ক্ষতি হবে! তাহলে শুনুন, আমি তো আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে প্রস্তুত।”

সমাজবাদী পার্টি ও অখিলেশ যাদবকে নিশানা
এদিনের সভা থেকে সরাসরি সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদবের উদ্দেশে ইশারা করে ওয়েইসি বলেন, “যদি অখিলেশজি চেয়ারের সামনে গিয়ে বসেন, তবে এই ওয়েইসি গিয়ে তাঁর সামনে মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসবে এবং আমাদের অধিকার ও ন্যায়ের কথা আদায় করে ছাড়বে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণ ও সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, এবার তাঁরা আর কেবল রাজনৈতিক দলগুলির ‘ভোটব্যাংক’ হয়ে থাকতে চান না, বরং প্রতিটি বিষয়ে সমান অংশীদারিত্ব চান।

নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের এজেন্ডা স্পষ্ট করে ওয়েইসি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁদের এই লড়াই কোনো বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং এই লড়াই আত্মসম্মানের এবং সাংবিধানিক ন্যায়ের জন্য। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঝেড়ে ফেলে সংখ্যালঘু সমাজ আর চুপ করে বসে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী বিরোধী দলগুলির মধ্যে আসন সমঝোতা বা জোট নিয়ে ইতিমধ্যেই অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় এআইএমআইএম-এর এই প্রকাশ্যে জোটের প্রস্তাব সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য ছোট দলগুলির মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিয়েছে।

যোগী আদিত্যনাথ সরকারের জমানায় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (CAA), অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) এবং অন্যান্য নীতি নিয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে, ওয়েইসি ঠিক সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে নিজের দলের শিকড় আরও শক্ত করতে চাইছেন। মোরাদাবাদের এই জনসভায় উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে যে রাজ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী, যা আগামী দিনে গেরুয়া শিবির এবং মহাজোট—উভয়কেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *