পায়ের পাতায় কি প্রায়ই ঝিন ধরে বা জ্বালা করে? অবহেলা করলেই নেমে আসবে ভয়ংকর বিপদ!

পায়ের পাতায় ঝিন ধরার অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সকলেরই রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মনে হয় যেন কেউ শিরা টেনে ধরছে কিংবা পায়ের আঙুলগুলো শক্ত হয়ে বেঁকে যাচ্ছে। এরপর মাসাজ করে, আঙুল টেনে ধরে বা পায়ের পাতায় জল ঢেলে দীর্ঘক্ষণ পর তা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
তবে শুধু ঝিন ধরাই নয়, এর পাশাপাশি অনেকেই পায়ের পাতায় প্রায়ই তীব্র জ্বালাভাব অনুভব করেন। অনেক সময় আবার অনুভূতি হয় যে পায়ের পাতা ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই তিন ধরনের অস্বাভাবিক অনুভূতি যদি ঘন ঘন হতে শুরু করে, তবে এখনই চরম সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। কারণ এটি কোনো সাধারণ শারীরিক ক্লান্তি নয়, বরং এক ভয়ংকর রোগের স্পষ্ট অশনিসংকেত!
বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট সুধীর কুমার-এর মতে, পায়ের পাতায় যদি প্রায়ই এই ধরনের অনুভূতিগুলো হতে থাকে, তবে তা ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগের আগমনী বার্তা হতে পারে। এর সহজ অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তাই রোগটি চরম আকার ধারণ করার আগেই প্রাথমিক পর্যায়েই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ডায়াবেটিস নীরবে শরীরে বাসা বেঁধে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো একাধিক প্রাণঘাতী রোগের পথ প্রশস্ত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে ডায়াবেটিসের ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বা ‘প্রি-ডায়াবেটিক’ মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট আশঙ্কার বিষয়।
ডায়াবেটিসের ভয়াবহ আক্রমণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে হলে সমস্ত ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, কেউ প্রি-ডায়াবেটিক পর্যায়ে থাকলে তাঁর খাদ্যাভ্যাস থেকে অবিলম্বে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবারের পরিমাণও অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।