পছন্দের শাড়ি কিনে না দেওয়ায় স্বামীক খুন! প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে যা করলেন স্ত্রী, শিউরে উঠবেন

শাড়ির জন্য আবদার আর তা পূরণ না হওয়ার জেরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের মুম্বই। পছন্দের শাড়ি কিনে না দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলা তুমুল ঝামেলার শেষ পরিণতি হিসেবে স্বামীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
বুধবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের থানেতে। পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রীর শাড়ি কিনে দেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে সজোরে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে স্বামীকে খুন করেন। এই ঘটনায় ৩৩ বছরের ঘাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খুনের নেপথ্যে শাড়ির আবদার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই গৃহবধূর নাম সুনিতাদেবী হরিরাম সিং, যিনি আদতে বিহারের বাসিন্দা। গত ১৯ জুলাই বাদলাপুরে নিজেদের বাড়িতেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ৩৫ বছরের হরিরাম কিসুনজি সিং ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে হঠাৎই তীব্র অশান্তি শুরু হয়। স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে শাড়ি কিনে দেওয়ার বায়না ধরেছিলেন, কিন্তু সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় স্বামীর ওপর পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন অভিযুক্ত স্ত্রী।
এই বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। রাগের বশে সুনিতাদেবী স্বামীর মাথায় প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে সজোরে আঘাত করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন।
পুলিশের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
প্রাথমিকভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য স্ত্রী দাবি করেছিলেন যে এক দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। তবে যুবকের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলে পুলিশের মনে প্রবল সন্দেহের দানা বাঁধে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানা যায় যে যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর মৃত্যু মূলত শ্বাসরোধের ফলেই হয়েছে।
এরপরই স্ত্রীকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরা করার পর শেষমেশ নিজের মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নেন সুনিতাদেবী এবং সম্পূর্ণ ঘটনার নেপথ্য কারণও খুলে বলেন। গত মঙ্গলবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।