NEET বিক্ষোভে রাহুলের নাটক! মোদীর বাড়ির সামনে ধুন্ধুমার কাণ্ডের মাঝেই INDIA জোটে বেধে গেল চরম গৃহযুদ্ধ!

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র আন্দোলনের জল গড়াল জাতীয় রাজনীতির শীর্ষস্তরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধীর বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। রাহুলের এই প্রতিবাদকে ‘বিজেপির সঙ্গে সেটিং’ বলে দেগে আম আদমি পার্টি (AAP) যে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছে, তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস শিবির। আর এই সুযোগ হাতছাড়া না করে ময়দানে নেমে পড়ে আক্রমণ শাণিয়েছে বিজেপিও।
নাটকীয় মোড় ও আপের বিস্ফোরক অভিযোগ
৭ লোক কল্যাণ মার্গের সামনে থেকে রাহুল গান্ধীকে পুলিশ টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাপ্রবাহ। রাহুলকে আটকের ঘটনার পরই আপের রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “সিজেপি-র এক মাসের আন্দোলনকে দুর্বল করতেই মোদী রাহুল গান্ধীকে বসিয়ে বিক্ষোভ করিয়েছেন।”
আপের মূল যুক্তি— সোনম ওয়াংচুক ও সিজেপি-র আন্দোলনকারীরা এক মাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করলেও সরকার কথা বলেননি, অথচ রাহুলের বিক্ষোভ শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে যান।
দিল্লি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আতিশী অভিযোগের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দাবি করেন, যে দিল্লি পুলিশ সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ১০০ মিটারও এগোতে দেয়নি, তারা কীভাবে রাহুলকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দোরগোড়ায় যেতে দিল? আতিশীর সাফ কথা, “কংগ্রেস এবং বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।”
‘আপনার থেকে আশা করিনি!’ আপকে ধুয়ে দিল তৃণমূল ও কংগ্রেস
আপ নেতাদের এই অবস্থান সামনে আসতেই বিরোধী শিবিরের অন্দরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। সঞ্জয় সিংকে ট্যাগ করে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ লেখেন, “এটা আপনার কাছ থেকে আশা করিনি। আমাদের বন্ধুত্বকে আপনি লজ্জায় ফেললেন।” একইভাবে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা বিভি শ্রীনিবাস প্রশ্ন তোলেন, “এত রাগ কেন? এই পোস্টটা কি অমিত মালব্য লিখে দিয়েছেন, না রাঘব চাড্ডা?” আতিশীর পোস্টের নিচে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গীতিকার বরুন গ্রোভার লিখেছেন, “লজ্জা থাকলে এই পোস্টটি মুছে ফেলুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে কেজরিওয়ালের আশঙ্কা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, লোকপাল আন্দোলনের সময়ে ঠিক এভাবেই আন্দোলন আছড়ে পড়েছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে এবং সেই আন্দোলনের সমস্ত রাজনৈতিক সুবিধা পকেটে পুরেছিল আপ। মঙ্গলবার রাহুলের প্রতিবাদ যে পরিমাণ সাড়া ফেলেছে, তাতে বেশ দিশাহারা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল। তাঁদের আশঙ্কা, রাহুলের এই পদক্ষেপে আপের রাজনৈতিক জমিতে বড় ধস নামতে পারে। আর সেই কারণেই বেপরোয়া হয়ে সমালোচনায় নেমেছেন সঞ্জয় সিংরা।
আসরে নামল পদ্মশিবির
বিরোধীদের এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়িকে অব্যর্থ হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “এই আন্দোলন কোনওদিনই ছাত্রদের জন্য ছিল না। বিরোধী নেতারা রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে ময়দানে ভিড় জমিয়েছিলেন। এখন কংগ্রেস আর আপ কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যেই মারামারি করছে। ছাত্রদের পাশে যদি সত্যি কেউ থাকে, তা একমাত্র বিজেপি।”
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে যে ছাত্র আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, তা এখন স্পষ্টতই দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তীব্র রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নিয়েছে। একদিকে বিরোধী জোটের অন্দরে ‘বিজেপি-যোগের’ অভিযোগে কাদা ছোড়াছুড়ি, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা তোপ—সব মিলিয়ে ছাত্রদের আসল দাবি ও মেধা রাজনৈতিক আকচাআকচিতে হারিয়ে যেতে বসেছে বলেই মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা।