সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা জনপ্রিয়তার দিন শেষ! আইনজীবীদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির কোন কড়া বার্তায় শোরগোল পড়ল?

সোশ্যাল মিডিয়ায় সস্তা বা ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার পিছু না ছুটে কাজের মান এবং কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই পেশাগত জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। বুধবার নবনিযুক্ত অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডদের (এওআর) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, বাহ্যিক রূপ, লাইক-কমেন্ট আর প্রকৃত পেশাদার বিশ্বাসযোগ্যতা কখনই এক জিনিস হতে পারে না।

২০২৫ ব্যাচের ‘অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড’-দের সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি নতুন আইনজীবীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, তাঁরা এমন এক গৌরবময় আইনি সম্প্রদায়ে পা রাখছেন যা দীর্ঘ দশক ধরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ওকালতি ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।

কাজের মানই আসল ক্যারিয়ার গড়ে তোলে
সুপ্রিম কোর্ট অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সিজেআই সূর্যকান্ত নতুন এওআর-দের সতর্ক করে বলেন যে, শুধুমাত্র এই বিশেষ ডিগ্রি বা যোগ্যতা অর্জন করলেই পেশাগত সাফল্য নিশ্চিত হয় না। তাঁর কথায়, “পদবি বা ডিগ্রি হয়তো পেশায় প্রবেশের দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু তা নিজে থেকে কোনো কর্মজীবন তৈরি করে না। একমাত্র আপনার কাজের গুণমান এবং মেধার বিকাশই আপনার আসল ক্যারিয়ার গড়ে তুলবে।”

তিনি তরুণ আইনজীবীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিচারপতির সামনে বা মামলার নথিতে যখনই আপনাদের নাম আসুক না কেন, আপনাদের পরিচিতি যেন একজন অত্যন্ত সুপ্রস্তুত ও দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠে।

সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এক নয়
আজকের ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠার প্রবণতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আজকাল মনোযোগ আকর্ষণ করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে রাতারাতি পরিচিতি পেতে চায়। কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, এই ধরনের ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তা এবং পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা এক জিনিস নয়। অনলাইন পপুলারিটি দিয়ে নিজের সাফল্য মাপার প্রলোভন থেকে সকলেরই দূরে থাকা উচিত। আপনাদের কখনই এমন কোনো টিভি চ্যানেলের মতো আচরণ করা উচিত নয়, যারা কেবল টিআরপি বাড়ানোর নেশায় মেতে থাকে।”

সিজেআই-এর মতে, প্রকৃত সম্মান ও স্বীকৃতি সেটাই যা একজন আইনজীবী আদালতের ভেতরে বিচারক, সহকর্মী আইনজীবী ও মক্কেলদের কাছ থেকে অর্জন করেন। একটি দীর্ঘ ও সফল আইনি জীবন কখনো সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্স বা লাইক-শেয়ারের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না, এর জন্য প্রয়োজন চেম্বারে নিরলস ও অনাড়ম্বর কঠোর পরিশ্রম।

দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
ভাষণের শেষভাগে প্রধান বিচারপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড হওয়া মানে কেবল নিজের পেশাগত উন্নতি ঘটানো নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিরও একটি বড় মাধ্যম। তিনি নতুন এওআর-দের সাধ্যমতো বিনামূল্যে আইনি সহায়তার মামলা গ্রহণ করার এবং সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে আইনি প্রতিনিধিত্ব থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *