পোষা কুকুরকে মাংস খাইয়ে ১৮ লক্ষ টাকার মেগা লুট! ভোপালের সেই দুর্ধর্ষ ডাকাতির মাস্টারমাইন্ড কীভাবে শেষমেশ জালে পড়ল?

বাড়ির নিরাপত্তায় পোষা হিংস্র ও অনুগত কুকুর পাহারা দিলেও চোর বা ডাকাতরা সাধারণত সেখানে পা রাখতে সাহস পায় না। কিন্তু ভোপালের সুরজ নগর এয়ারপোর্ট রোডে এক প্রবীণ আইনজীবীর সুরক্ষিত বাংলোতে যেভাবে নিখুঁত ছকে ডাকাতি হয়েছিল, তার কৌশল দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। দীর্ঘ সাত মাস ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার পর অবশেষে ৩০ বছর বয়সী সেই কুখ্যাত ডাকাত শাহরুখ কোরেশিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি গত ২০২৫ সালের ২৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের রাতের। ওই ভয়াবহ রাতে আইনজীবীর বাংলোয় হানার আগে ডাকাতরা এমন এক বুদ্ধি খাটিয়েছিল যা পুলিশকেও হতবাক করে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার পরই ডাকাত দল পকেট থেকে কাঁচা মাংসের টুকরো বের করে পোষা কুকুরগুলোর দিকে ছুড়ে দেয়। লোভনীয় সেই মাংস খেয়ে কুকুরগুলো যখন শান্ত হয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ঠিক সেই সুযোগেই দুর্ধর্ষ অপরাধীরা নিঃশব্দে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সোজা আইনজীবীর শোবার ঘর ও সিন্দুক ভেঙে নগদ ১৮ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর সোনা-রুপার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় তারা। পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে জানা যায়, এই চাঞ্চল্যকর কান্ডটি ঘটিয়েছিল মোট ১৯ জনের একটি বিশাল অপরাধী চক্র।
ভিতরের খবরাখবর ও রেকি দল
পুলিশের তথ্যে প্রকাশ, এই গ্যাংটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে অপরাধ ঘটাতো। গৃহকর্মী জ্যোতি সাউলে এবং তার বোন কিরণ সহ মোট আটজনের একটি দল প্রথমে বাড়িটি রেকি করে। কোন সময়ে কুকুরগুলো উঠোনে থাকে এবং মাংস দিয়ে কীভাবে তাদের বাগে আনা যাবে, সেই সমস্ত গোপন তথ্য তারা মূল পাচারকারীদের সরবরাহ করেছিল। এই নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই ১১ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী ওই রাতে হামলা চালিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের আট সদস্যকে আগেই গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত শাহরুখ কোরেশি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গ্রেপ্তারি এড়াতে সে বারবার নিজের অবস্থান ও চেহারা বদল করত এবং শেষ পর্যন্ত জয়পুরের ঝোটওয়ারা এলাকায় লুকিয়ে ছিল।
জয়পুরে নতুন ছক ও গ্রেপ্তার
গত ২১ জুলাই নাঙ্গাল পুলিয়ার কাছ থেকে ঝোটওয়ারা থানা পুলিশ একটি অবৈধ দেশি পিস্তলসহ শাহরুখকে গ্রেপ্তার করার পরই সমস্ত রহস্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের জোরালো সন্দেহ, জয়পুরের কোনো ধনী পরিবারকে নিশানা করতে সে ফের সেই একই ‘কুকুরের কৌশল’ প্রয়োগের পরিকল্পনা করছিল। বর্তমানে ভোপাল পুলিশ তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে পলাতক গ্যাং লিডার ভাজ্জু এবং কোটি টাকার লুট হওয়া সোনা-রুপো ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।