ফিফা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করলেন লা লিগা প্রধান! ফুটবল সাম্রাজ্য ধ্বংসের অভিযোগে বিশ্ব ফুটবলে চরম ভূকম্পন

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল সমাপ্ত হওয়ার পরেই ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর (Gianni Infantino) পদত্যাগ দাবি করে বসল লা লিগা। লা লিগার প্রেসিডেন্ট হেভিয়ের তেবাস (Javier Tebas) সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার কলেবর বৃদ্ধি করার নামে ফিফা কর্তৃপক্ষ বিশ্বজুড়ে ঘরোয়া লিগ এবং ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলির স্বার্থ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করছে, যার ফলে গোটা ফুটবল শিল্পই আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ‘লা গাজেত্তা দেলো স্পোর্ত’-কে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক সাক্ষাৎকারে লা লিগা প্রধান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, “আমার মতে, হ্যাঁ। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ইনফ্যান্তিনোর সময় এবার ফুরিয়ে এসেছে।” উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে সরাসরি ৬৪টি করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ফিফা। যার জেরে বিভিন্ন ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূচি নিয়ে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে।
পদত্যাগ চাইলেও ক্ষমতাচ্যুত করা কঠিন, দাবি তেবাসের
ফিফা সভাপতির পদ থেকে ইনফ্যান্তিনোর অবিলম্বে অপসারণ দাবি করলেও, তিনি যে সহসা পদত্যাগ করছেন না সেকথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন লা লিগা সভাপতি। তাঁর মতে, নৈতিকভাবে ইনফ্যান্তিনোর পদে থাকা উচিত নয়, কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ক্রীড়াব্যবস্থার ত্রুটির কারণে তিনি সহজেই ক্ষমতায় টিকে যাবেন। তেবাসের বক্তব্য, “তাঁর সরে দাঁড়ানো উচিত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যাবেন না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তিশালী বিরোধী প্রার্থী নেই। কেউ জেনেশুনে হারার জন্য নির্বাচনে লড়তে চায় না। এটাই আজকের ফুটবল ব্যবস্থার নির্মম সত্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে বহু মানুষকে ইনফ্যান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করতে এবং তাঁর কাজের বিরোধিতা করতে শুনেছি। তাঁরা ক্যামেরার সামনে কথাগুলো বললেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে টানা ফিফা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানো ইনফ্যান্তিনো গত এপ্রিল মাসেই ঘোষণা করেছেন যে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্যও নির্বাচনে লড়াই করবেন। আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোর (Morocco) মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৭-৩১ মেয়াদের এই নির্বাচনে তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অধিকাংশের সমর্থন এখনও তাঁর পক্ষেই রয়েছে, যার ফলে তাঁর জয়রথ আটকানো একপ্রকার অসম্ভব।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত হস্তক্ষেপ ও সমালোচনার ঝড়
এবারের ফিফা বিশ্বকাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন ব্যালোগান (Folarin Balogun) সরাসরি লাল কার্ড দেখার পরেও পরের ম্যাচেই মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সরাসরি হস্তচেই যে ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি শেষ মুহূর্তে ওই মার্কিন ফুটবলারের নির্বাসন স্থগিত করে দিয়েছিল, সেই গুরুতর অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন লা লিগা প্রধান।
এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তেবাস বলেছেন, “কোনো মার্কিন ফুটবলারের ওপর থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবে নির্বাসন তুলে নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গুরুতর ঘটনা। ঈশ্বরের কৃপা বলতে হবে যে বেলজিয়াম দল শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে। যদি তা না হতো, তবে এমন এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারত যা সরাসরি ইনফ্যান্তিনোর চাকরিটাই কেড়ে নিত। তবে বেলজিয়ামের জয়ের সুবাদে আপাতত সেই বড় কেলেঙ্কারি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই সমস্ত ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র—এর গভীরে আরও অনেক কিছু লুকিয়ে রয়েছে।”