“অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে আমাদের কাঠগড়ায় তুলছেন তাঁরাই!” ক্ষোভ উগরে আরামবাগে বিরাট মিছিল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় সাধারণ মানুষের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদেরই। আর এই অভিযোগ তুলেই ভেরিফিকেশনের কাজ থেকে অব্যাহতি-সহ একাধিক সুনির্দিষ্ট দাবিতে মঙ্গলবার মুখর হলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এদিন আরামবাগের এসডিও এবং বিডিও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিল ওয়েস্ট বেঙ্গল অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স ইউনিয়ন। একইসঙ্গে মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং বকেয়া ডিম ও সবজির টাকা মেটানোর দাবিতে সরব হয়ে একটি সুদৃশ্য ও প্রতিবাদী মিছিল বের করেন কর্মীরা।

এদিন আরামবাগ এসডিপিও অফিস থেকে বিশাল এক পদযাত্রা করে এসডিও ও বিডিও অফিসে পৌঁছান শত শত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা। প্রশাসনিক ভবনগুলির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের হাতে নিজেদের দাবিদাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড হেল্পার্স ইউনিয়নের সদস্যদের মূল অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের পুনরায় ভেরিফিকেশনের সংবেদনশীল কাজটির সময় কোনো সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক উপস্থিত থাকেন না। এর ফলে যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পৌঁছয়নি, তাঁদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে মাঠপর্যায়ে কাজ করা এই কর্মীদেরই। সাধারণ মানুষ তাঁদেরই কাঠগড়ায় তুলছেন, যার জেরে প্রায়শই চরম অস্বস্তিকর ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের।

মিছিলের মাঝে এক প্রতিবাদী মহিলা কর্মী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এখন তো আমাদের দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। আমরা যে কাজ করতে চাইছি না, এমনটা নয়। কিন্তু আমরা পরিষ্কার দাবি জানাচ্ছি যে, এই কাজের সময় আমাদের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো সরকারি আধিকারিক উপস্থিত থাকুন।”

এছাড়াও এদিনের এই জোরালো ডেপুটেশনে কর্মক্ষেত্রে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, প্রতিটি কেন্দ্রে মা ও শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যের মান আরও উন্নত করা এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর জোরালো দাবি জানানো হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হলেও আজও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তাই কর্মীদের যথাযথ স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি পরিষেবার মান উন্নত করতে প্রশাসন যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এখন রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই বিক্ষোভ ও স্মারকলিপির পর কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *