“ঠাকুমা নেই এ সত্যি মানতে পারব না!” দাহ করার মুহূর্তে চুল্লিতে ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, তারপর…

মঙ্গলবার মধ্যরাতে নদিয়ার নবদ্বীপ মহাশ্মশানে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক ঘটনা। মৃতার প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে না পেরে সরাসরি বৈদ্যুতিক চুল্লিতে মৃতদেহের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক। শেষ পর্যন্ত শ্মশানের কর্মীরা ও উপস্থিত মানুষজন তড়িঘড়ি তাঁকে চুল্লির ভিতর থেকে টেনে বাইরে বের করে আনেন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই যুবক নবদ্বীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই আকস্মিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল নবদ্বীপ মহাশ্মশানে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গেদে এলাকা থেকে একটি মৃতদেহ দাহ করার জন্য গাড়ি করে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে আসা হয়েছিল। মৃত ব্যক্তি একজন বৃদ্ধা মহিলা। নিয়মমতো শ্মশানযাত্রীরা যখন ওই বৃদ্ধার মৃতদেহটি বৈদ্যুতিক চুল্লির ভিতরে ঢোকাতে যান, ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি।

মৃতা মহিলার সঙ্গে আসা প্রায় ত্রিশ বছর বয়সি নাতি ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস আচমকাই কারোর কিছু বুঝে ওঠার আগেই চুল্লিতে প্রবেশ করানোর ট্রলির মধ্যে থাকা দেহের উপর গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ট্রলিটি কিছুটা খোলা অবস্থায় চুল্লির ভিতর একটু এগোতেই উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে শ্মশানকর্মী ও অন্যান্য শ্মশানযাত্রীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ওই যুবককে চুল্লির ভেতর থেকে টেনে বাইরে উদ্ধার করেন। এরপর অগ্নিদগ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত নবদ্বীপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

মানসিক অবসাদ থেকেই কি এই চরম সিদ্ধান্ত?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয়দের অনুমান, ঠাকুমার আকস্মিক মৃত্যু ও তাঁর চিরবিদায় কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি নাতি ইন্দ্রজিৎ। তীব্র মানসিক অবসাদ ও প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণার ফলেই তিনি এমন চরম ও বিপজ্জনক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঠিক কী কারণে তিনি এই ভয়ংকর পথ বেছে নিলেন, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *