সপ্তাহের রুটিন ভাগ করে দিল পঞ্চায়েত! দুই স্ত্রীর সংসারে সমতা আনতে অভিনব নির্দেশ উত্তরপ্রদেশের

উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলায় এক পারিবারিক বিবাদের অভিনব মীমাংসা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত। দুটি বিয়ের জেরে সংসারে যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান ঘটাতে পঞ্চায়েত যে ফায়সালা শুনিয়েছে, তা নিয়ে এখন পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, স্বামী তাঁর সপ্তাহে কাজের দিনগুলো দুই স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেবেন—সোম থেকে বুধবার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে এবং বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন। আর সপ্তাহের বাকি সপ্তম দিনটি অর্থাৎ রবিবার ওই ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো কাটাতে পারবেন। পাশাপাশি, প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে এই চুক্তিতে।
ঠিক কী হয়েছিল ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার দধিয়াল থানা এলাকায়। ওই যুবকের প্রায় ১৪ বছর আগে প্রথম বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর দুটি সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীর কোনো রকম সম্মতি ছাড়াই তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেও দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই ওই ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীকে সম্পূর্ণ অবহেলা করতে শুরু করেন এবং বেশিরভাগ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে প্রথম স্ত্রী অবহেলা ও ভরণপোষণের অভাবের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পুলিশের হস্তক্ষেপে বসে পঞ্চায়েত
বিষয়টি থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশি উদ্যোগে উভয় পক্ষের পরিবার ও বিশিষ্ট গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি সালিশি সভা বা পঞ্চায়েত ডাকা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি লিখিত চুক্তিপত্র তৈরি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী—
সোমবার থেকে বুধবার: প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন স্বামী।
বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার: দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাবেন তিনি।
রবিবার: এই দিনটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের স্বাধীন ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, প্রথম স্ত্রীর মাসিক রেশনের পাশাপাশি সাপ্তাহিক হাতখরচ দেওয়ার বিষয়টিও ওই লিখিত চুক্তিতে পাকাপাকিভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
সমঝোতায় সন্তুষ্ট উভয় পক্ষই
পঞ্চায়েতের এই অদ্ভুত অথচ নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত দুইপক্ষই মেনে নিয়েছে। মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় প্রথম স্ত্রী আর থানায় নিজের অভিযোগটি আর এগিয়ে নিয়ে যাননি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, দুই পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই এই পারিবারিক বিবাদের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। তবে এই সালিশি সভার রায় এবং রুটিনভিত্তিক সংসার করার নিয়মটি এখন রামপুরসহ গোটা রাজ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।