চোখ ধাঁধানো রিটার্ন! মাত্র কয়েক সপ্তাহে ভারতীয় ব্যাংকে হু হু করে ঢুকছে বিদেশি মুদ্রা

ভারতীয় অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে এবং রুপিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) চালু করা নতুন আমানত প্রণোদনা প্রকল্প দারুণ সাফল্য পেয়েছে। অনাবাসী ভারতীয়রা (NRI) ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট (FCNR) ডিপোজিটের মাধ্যমে ভারতীয় ব্যাংকগুলোতে ইতিমধ্যেই ১৭.৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা করেছেন। গত ৫ জুন ঘোষিত এবং তার তিন দিন পর চালু হওয়া এই প্রকল্পটি আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত খোলা থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা তাঁদের জমানো অর্থের ওপর আকর্ষণীয়ভাবে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

সোয়াপ উইন্ডোতে রেকর্ড ২০.৭২ বিলিয়ন ডলার
রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই পর্যন্ত আরবিআই-এর ডলার সোয়াপ সুবিধায় মোট ২০.৭২ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ অংশই এসেছে এফসিএনআর-বি (FCNR-B) আমানত থেকে। এই সোয়াপ উইন্ডোর আওতায় এফসিএনআর আমানত ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রা ঋণ হিসেবে ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার এবং এক্সটার্নাল কমার্শিয়াল বরোয়িং (ECB)-এর মাধ্যমে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি এই সোয়াপ উইন্ডোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ও নিশ্চিত হারে রুপির বিনিময়ে ডলার গ্রহণ করছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ গৌরা সেনগুপ্ত এই মূলধন প্রবাহ প্রকল্পটিকে একটি “খুব ভালো সূচনা” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যে গতিতে তহবিল আসছে, তাতে এই প্রকল্পের ফলে মোট এফসিএনআর-বি প্রবাহ ৫০ বিলিয়ন ডলারের অনুমানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আরও বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (PNB) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী অশোক চন্দ্রও একই মত প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক অনুমানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পিএনবি এই খাতে ২.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৪২৫ মিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে।

প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ ও বার্কলেস-এর রিপোর্ট
প্রকল্পটির সূচনাপর্বে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ব্যাংকগুলিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারগুলির এনআরআইদের কর সংক্রান্ত উদ্বেগ, বিনিয়োগের প্রকৃত উৎস নিয়ে সংশয় এবং কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণের অভাবে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আরবিআই এবং অর্থ মন্ত্রক ব্যাংকগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পৃথক বৈঠক করে। ২০১৩ সালের কঠোর কর নিরীক্ষার অভিজ্ঞতার কারণে মার্কিন এনআরআইরা কিছুটা সতর্ক থাকলেও, সামগ্রিক প্রবাহ সন্তোষজনক।

উল্লেখ্য, বার্কলেস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আগামী কয়েক মাসে এফসিএনআর খাতে ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য বিনিয়োগ আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের কল্যাণে চলতি ২০২৭ অর্থবর্ষে ভারতের ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস (BoP) উদ্বৃত্ত ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা মুদ্রা বাজারে রুপির পতনকে রুখতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *